ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ভাড়া বাড়বে না, ঈদযাত্রায় চাঁদাবাজি রুখবে সরকার: শেখ রবিউল আলম

ভাড়া বাড়বে না, ঈদযাত্রায় চাঁদাবাজি রুখবে সরকার: শেখ রবিউল আলম

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। এবারের ঈদে নৌপথের যাত্রীদের জন্য কোনো অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নৌ, রেল ও সেতু এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে ঈদযাত্রা উপলক্ষে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, "নৌপথে যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে আমরা ২৬টির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার নৌপথে একটি নিরাপদ ঈদযাত্রা দেশবাসীকে উপহার দেওয়া হবে।"

চাঁদাবাজি নিয়ে জিরো টলারেন্স

সড়ক ও নৌপথে চাঁদাবাজি রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদা ও চাঁদাবাজি এক বিষয় নয়। চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ, যা দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে। তবে শ্রমিক ও মালিকদের পারস্পরিক সমঝোতায় আদায়কৃত অর্থ চাঁদাবাজি নয়, কারণ এটি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হয়।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, সড়কে যানবাহন থেকে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।

ঈদযাত্রায় নতুনত্বের ছোঁয়া

পরিবহনমন্ত্রী জানান, এবারের ঈদযাত্রায় ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু নতুনত্ব আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথের সমন্বিত প্রস্তুতির ফলে যাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের ইচ্ছায় কিছু করিনি, কেবিনেট ডিভিশনের নির্দেশ মেনে সবকিছু করা হয়েছে।’

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকারের এই আগাম তৎপরতা ইতিবাচক হলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। প্রতিবছরই ঈদের আগে ‘ভাড়া বাড়বে না’ এমন ঘোষণা দেওয়া হলেও লঞ্চ ও বাস টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায়। এবার নৌ-ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার চ্যালেঞ্জটি কতটুকু কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে তদারকি কমিটির সক্রিয়তার ওপর।

বিশেষ করে মন্ত্রীর বক্তব্যে ‘শ্রমিক কল্যাণের অর্থ’ এবং ‘চাঁদাবাজি’র মধ্যে যে সূক্ষ্ম বিভাজন দেখা গেছে, তা পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির সংজ্ঞাকে অস্পষ্ট করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে ২৬টি সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়ন এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে মন্ত্রীর কঠোর অবস্থান যদি সফল হয়, তবে সাধারণ মানুষের জন্য এবারের ঈদযাত্রা সত্যিই একটি নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়াবে। সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার এই পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি।