ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ভাসানচর এখন সন্দ্বীপের অংশ: অবসান হলো দীর্ঘ সীমানা বিরোধের

ভাসানচর এখন সন্দ্বীপের অংশ: অবসান হলো দীর্ঘ সীমানা বিরোধের

কক্সবাজার থেকে সরিয়ে আনা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভাসানচর এখন থেকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অংশ হিসেবে গণ্য হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দ্বীপটিকে সন্দ্বীপের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে নোয়াখালীর হাতিয়া ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সীমানা সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের অবসান ঘটল।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা থেকে গত ১৩ জানুয়ারি জারিকৃত এক নির্দেশনায় ভাসানচরের ছয়টি মৌজাকে সন্দ্বীপের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্বীপটিকে হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সরকারের সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে, ১৯৯২ সালে সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়া সন্দ্বীপের ন্যায়ামস্তি ইউনিয়ন যেখানে অবস্থিত ছিল, ঠিক সেখানেই ভাসানচর জেগে উঠেছে। সন্দ্বীপ উপকূল থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বের এই নতুন ভূমির মালিকানা পেতে স্থানীয়রা ঐতিহাসিক দলিল ও ভৌগোলিক অবস্থানের প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

সীমানা বিরোধ মেটাতে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন, স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ এবং পুরোনো দালিলিক প্রমাণাদি যাচাই করে প্রতিবেদন দেয় যে, ভাসানচরের অবস্থান সন্দ্বীপের সীমানার মধ্যেই।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের এই আদেশে সন্দ্বীপের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এখন প্রশাসনিক কাজগুলো আরও সহজ হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভাসানচর এলাকায় সন্দ্বীপের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পথ প্রশস্ত হলো।