ভারতের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজে স্বাগতিকদের ২–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে ২৫ বছর পর ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বুধবার সিরিজের শেষ টেস্টে তারা ভারতকে ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায়। ৫৪৯ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত অলআউট হয় মাত্র ১৪০ রানে। এটি ভারতের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ জয়।
এর আগে ২০০০ সালে হ্যান্সি ক্রনিয়ে–র নেতৃত্বে নিজেদের প্রথম টেস্ট সিরিজ জিতেছিল প্রোটিয়ারা। দীর্ঘ দুই যুগ পর আবার সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তির স্বাদ পেলেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা।
শেষ দিনে ড্র-ই ছিল ভারতের প্রধান লক্ষ্য। ২ উইকেটে ২৭ রান নিয়ে দিন শুরু করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমারের আগ্রাসী বোলিংয়ে ভারত দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারায়। এক ওভারেই তিনি কুলদীপ যাদব ও ধ্রুব জুরেলকে আউট করেন। এরপর ঋশাভ পান্তকে ফিরিয়ে হারমার ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ ভাঙচুর চালিয়ে যান।
তবে সাই সুদর্শন ও রবীন্দ্র জাদেজা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। প্রথম সেশন শেষে সুদর্শন ১৩৮ বলে ১৪ রানে এবং জাদেজা ৪০ বলে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই সুদর্শন এজ হয়ে মারক্রামের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর ও জাদেজা চেষ্টা করলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি।
ফিল্ডার এইডেন মারক্রাম এক টেস্টে সর্বোচ্চ ৯ ক্যাচ নিয়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েন, যা ২০১৫ সালে আজিঙ্কা রাহানের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। হারমার ইনিংসে ৬ উইকেট এবং পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করেন। শেষ দিকে কেশব মহারাজের জোড়া আঘাতে ভারত দ্রুত গুটিয়ে যায়।
জাদেজা ফিফটি করেও দলকে রক্ষা করতে পারেননি। শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সিরাজকে মার্কো জানসেন দারুণ এক লাফিয়ে ধরা ক্যাচে বিদায় করেন।
প্রোটিয়াদের স্পিন আক্রমণের সামনে ভারতীয় ব্যাটিং ধসে পড়ে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা তুলে নেয় স্মরণীয় এক সিরিজ জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৮৯ ও ২৬০/৫ (ডিক্লেয়ার)
ভারত: ২০১ ও ১৪০ (জাদেজা ৫৪, সুদর্শন ১৪, পন্ত ১৩, জয়সোয়াল ১৩; হারমার ৬/৩৭, মহারাজ ২/৩৭, মুতুসামি ১/২১)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০৮ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: মার্কো ইয়ানসেন (দক্ষিণ আফ্রিকা)
সিরিজসেরা: সাইমন হারমার (দক্ষিণ আফ্রিকা)
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ২–০ তে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা