সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ভারতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। বুধবার খাইবার পাখতুনখোয়ার হরিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জনসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি বাহিনী ভারতকে এক চূড়ান্ত আঘাত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে ভারতীয় নেতৃত্বের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শেহবাজ শরীফ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রায় ৮৭ ঘণ্টার টানা সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান তিনটি রাফায়েলসহ মোট ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তিনি এই সাফল্যকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জাতীয় সংকল্প এবং সাধারণ মানুষের দোয়ার ফল হিসেবে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, নয়াদিল্লি এই পরাজয় দীর্ঘ সময় মনে রাখবে।
তবে পাকিস্তানের এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো যুদ্ধবিমান বা ড্রোন ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েনি। উল্টো তারা সীমান্তের পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করছে। মূলত গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে একটি সশস্ত্র হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ভারত ওই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করলেও ইসলামাবাদ শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারত প্রথমে পাকিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও ভারতের সীমানায় আক্রমণ করলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছালে সরাসরি যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটে।
এত কিছুর পরেও শেহবাজ শরীফের সাম্প্রতিক এই আক্রমণাত্মক ভাষণ দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সীমান্তে এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষই একে অপরের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।