স্পোর্টস ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বার ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ভারতের ঐতিহাসিক জয়: প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন

ভারতের ঐতিহাসিক জয়: প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন

নাভি মুম্বাইয়ের ড. ডিওয়াই পাতিল স্পোর্টস একাডেমিতে রোববার ইতিহাস গড়ল ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে তারা। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল হারমানপ্রিত কৌরের দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্টের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিও ব্যর্থ হলো দলের পরাজয় ঠেকাতে। ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় প্রোটিয়ারা গুটিয়ে যায় ২৪৬ রানে। আগে দুটি ফাইনালে হারা ভারত এবার তৃতীয় প্রচেষ্টায় পেল কাঙ্ক্ষিত ট্রফির ছোঁয়া। অন্যদিকে, প্রথমবার ফাইনালে ওঠে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকার নারী দল গত দুই বছরেই পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে ফিরেছিল। গত বছর পুরুষ দলও ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছিল। এবার নারী দলও সেই হতাশা কাটাতে পারল না।

ফাইনালের নায়ক হয়ে উঠলেন তরুণী শেফালি ভার্মা। কয়েকদিন আগেও তিনি ছিলেন না ভারতের মূল দলে, এমনকি রিজার্ভ তালিকাতেও নয়। প্রাতিকা রাওয়ালের চোটে বদলি হিসেবে সেমি-ফাইনালের আগে দলে ডাক পান তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিতে ব্যর্থ হলেও ফাইনালে ব্যাটে-বলে ঝড় তুললেন।

ব্যাট হাতে শেফালি খেলেন ৭৮ বলে ৮৭ রানের অসাধারণ ইনিংস, যাতে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। ছেলে কিংবা মেয়েদের যে কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো ভারতীয় ওপেনারের সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। পরে অফ স্পিনে নেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। আগের পাঁচ ইনিংসে মাত্র একটি উইকেট পাওয়া শেফালি এবার একাই নেন দুইটি। তার হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন দিপ্তি শার্মাও। ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে ৫৮ রান করার পর বল হাতে ৩৯ রানে নেন ৫ উইকেট। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ব্যাটে ফিফটি ও বলে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখালেন তিনি।

ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ভালো শুরু করলেও গতি হারায় দ্রুত। প্রথম ৯ ওভারে বিনা উইকেটে ৫১ রান তোলার পর আমানজোত কৌরের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউটে ফিরে যান তাজমিন ব্রিটস। এরপর বাঁহাতি স্পিনার শ্রি চারানি শূন্য রানে ফেরান আনেকা বশকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার আশা জাগানো জুটি গড়ে তোলেন উলভার্ট ও সুনে লিস। কিন্তু শেফালির বোলিংয়ে লিস ২৫ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। কিছুক্ষণ পরই শেফালি ফেরান মারিজান ক্যাপকেও। এরপর দিপ্তির ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হয় আফ্রিকান ব্যাটিং।

উলভার্ট এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান এবং ৯৬ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। তিনি নারী বা পুরুষ—যে কোনো বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার। তবে তিনি থামেন ১০১ রানে। দিপ্তির দুর্দান্ত ক্যাচে তার ইনিংসের সমাপ্তি হয়। সেই ওভারেই আরেকটি উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আশা কার্যত শেষ করে দেন দিপ্তি।

বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হলেও ভারতের ব্যাটিংয়ে তেমন প্রভাব পড়েনি। ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মার ব্যাটে দারুণ সূচনা পায় দল। প্রথম ১০ ওভারে আসে ৬৪ রান। চতুর্দশ ওভারে শেফালির লফটেড স্ট্রেট ড্রাইভে আসে ম্যাচের প্রথম ছক্কা। ১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে মান্ধানা (৪৫) আউট হলে। শেফালি ৪৯ বলে ফিফটি ছোঁয় এবং ইনিংস গড়েন ৮৭ রানে।

পরের দিকে দিপ্তি ও রিচা ঘোষের ৪৭ রানের জুটি ভারতের সংগ্রহ নিয়ে যায় ২৯৮ রানে। রিচা ২৪ বলে ৩৪ ও দিপ্তি ৫৮ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৫.৩ ওভারে থামে ২৪৬ রানে। ভারতের উল্লাসে তখন মুখর পুরো মাঠ। নারী ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস রচনা করল ভারত—প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

 ভারত: ৫০ ওভারে ২৯৮/৭ (শেফালি ৮৭, দিপ্তি ৫৮, মান্ধানা ৪৫, রিচা ৩৪)

 দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৪৬ (উলভার্ট ১০১; দিপ্তি ৫/৩৯, শেফালি ২/৩৬)

 ফল: ভারত ৫২ রানে জয়ী

 প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: শেফালি ভার্মা

 প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: দিপ্তি শার্মা