খেলাধুলা ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ব্যালন ডি’অরের লড়াই জমে উঠেছে, কার হাতে উঠতে পারে সোনার বল?

ব্যালন ডি’অরের লড়াই জমে উঠেছে, কার হাতে উঠতে পারে সোনার বল?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হতেই ব্যালন ডি’অর নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স অনেক ফুটবলারের অবস্থান বদলে দিয়েছে। ফলে বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত এই পুরস্কারের দৌড়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ফুটবল বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য শীর্ষ পাঁচ দাবিদারের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় রয়েছেন স্পেনের দুই তারকা রদ্রি ও লামিনে ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।

রদ্রি এগিয়ে আছেন আলোচনার শীর্ষে

ইনজুরির দীর্ঘ সময় পেরিয়ে বিশ্বকাপে দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছেন রদ্রি। স্পেনের মাঝমাঠে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়ে দলকে বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে তার প্রভাব এবং পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইয়ামালের স্বপ্নের মৌসুম

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে চলেছেন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি তিনি জিতেছেন লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। বিশ্বকাপেও স্পেনের শিরোপা জয়ে ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে সমানতালে সাফল্য পাওয়ায় ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তার অবস্থান বেশ শক্ত।

৩৯ বছরেও মেসির জাদু

বয়স যেন এখনও লিওনেল মেসির জন্য কেবল একটি সংখ্যা। ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। যদিও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে হারের কারণে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথ কিছুটা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবুও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণে আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

কেইনের ধারাবাহিকতা

ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত সময় পার করছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৩৬ গোল করে দলকে লিগ ও কাপের ডাবল জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান এবং মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে।

এমবাপ্পের ব্যক্তিগত সাফল্য

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধারাবাহিক গোল করে আলোচনায় ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। তবে দলীয় সাফল্যের বিচারে অন্যদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকায় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে।

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে ব্যালন ডি’অরের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা আগামী ২৬ অক্টোবরের জন্য। লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য জমকালো অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম।