ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২০ নভেম্বার ২০২৫, ০৮:২৯ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংকগুলোর রাইট-অফে নতুন নিয়ম: অবলোপনের ১০ দিন আগে নোটিশ বাধ্যতামূলক

ব্যাংকগুলোর রাইট-অফে নতুন নিয়ম: অবলোপনের ১০ দিন আগে নোটিশ বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশ ব্যাংক শ্রেণিকৃত মন্দমানের খেলাপি ঋণ অবলোপনের নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এখন থেকে কোনো ঋণ রাইট-অফ করার অন্তত ১০ কার্যদিবস আগে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে নোটিশ দিতে হবে। বুধবার জারি করা সার্কুলারটি সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়।

এর আগে ১৯ অক্টোবরের নিয়মে অবলোপনের ৩০ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে একটি অবলোপন-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি হয়—এমন যুক্তিতে সময়সীমা কমিয়ে ১০ দিন করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো অবলোপনকৃত ঋণ উদ্ধারে যুক্ত কর্মকর্তাদের নগদ প্রণোদনা দিতে পারবে। যেসব ব্যাংকের এ নীতিমালা নেই, তারা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করবে।

কোন ধরনের ঋণ অবলোপনের আওতায় আসবে—এ বিষয়ে সার্কুলারে বলা হয়, কোনো গ্রাহকের ঋণ যদি একাধারে মন্দ ও ক্ষতিজনক হিসেবে শ্রেণিকৃত থাকে, তবে তা রাইট-অফ করা যাবে। দীর্ঘদিন পুনরুদ্ধারযোগ্য নয়, এমন পুরোনো ঋণগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবলোপন করতে হবে। তবে গ্রাহক পুরো ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁর অবস্থান খেলাপি হিসেবেই থাকবে।

অবলোপনের শর্ত হিসেবে বলা হয়, মন্দ মানের কোনো ঋণ রাইট-অফ করতে হলে তার বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক। প্রভিশনে ঘাটতি থাকলে তা চলতি বছরের আয় থেকে সমন্বয় করে পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২০ লাখ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩ দশমিক ৪২ লাখ কোটি টাকা মন্দ ও ক্ষতিজনক মানের—যা মোট খেলাপির ৮১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলো চাইলে যথাযথ প্রভিশন পূরণের পর অবলোপনযোগ্য ঋণ ব্যালান্স শিট থেকে বাদ দিতে পারবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় ঋণগ্রহীতারা আগে থেকেই অবলোপন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং ব্যাংক খাতে রাইট-অফ ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।