ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বিসিসিআইয়ের প্রভাবমুক্ত না হলে আইসিসির প্রয়োজন নেই: আজমল

বিসিসিআইয়ের প্রভাবমুক্ত না হলে আইসিসির প্রয়োজন নেই: আজমল

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে না পারে, তবে এমন সংস্থার অস্তিত্ব থাকার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাঈদ আজমল। করাচিতে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে আইসিসিকে নিরপেক্ষ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি তারা বিসিসিআইয়ের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না পারে, তবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আজমলের দাবি, টেস্ট খেলুড়ে অন্য অনেক দেশই তার এই মতের সঙ্গে একমত হলেও তারা প্রকাশ্যে মুখ খোলে না।

সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আইসিসির অসহায়ত্বের বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ার পেছনে ভারতের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, কিন্তু আইসিসি তাদের এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়ে নিজেদের দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। বর্তমানে আইসিসি ভারতীয়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে বিসিসিআইয়ের সাবেক সচিব জয় শাহ আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ২০০৮ সালের পর ভারত আর পাকিস্তান সফরে যায়নি। যদিও পাকিস্তান কয়েকবার ভারতে গিয়ে আইসিসি ইভেন্টে অংশ নিয়েছে, তবে গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তান যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। এর ফলে টুর্নামেন্টটি হাইব্রিড মডেলে আয়োজন করতে হয় এবং ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সীমান্ত সংঘাতের কারণে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক এখন তলানিতে ঠেকেছে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানও এখন ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা হলেও পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারত পাকিস্তানে না আসা পর্যন্ত তারাও ভারতে কোনো ম্যাচ খেলবে না। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো সাঈদ আজমল পাকিস্তানের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে চার শতাধিক উইকেটের মালিক। মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এখন দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।