২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। দল সংখ্যা বাড়িয়ে ১৪ করা হলেও টুর্নামেন্টের ফরম্যাট আগের কোনো আসরের সঙ্গে মিলছে না। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য বিশ্বকাপকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, আকর্ষণীয় ও অনিশ্চয়তায় ভরপুর করে তোলা।
ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
সবশেষ ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১০ দল নিয়ে। সীমিত দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের কারণে আইসিসিকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়। এবার সেই সমালোচনা মাথায় রেখেই অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে ২০১১ ও ২০১৫ সালের মতো দুই গ্রুপে ভাগ করে কোয়ার্টার ফাইনাল আয়োজনের পথেও হাঁটেনি আইসিসি।
নতুন ফরম্যাটে ১৪ দলের বিশ্বকাপে যোগ হয়েছে ‘সুপার সিরিজ’ ও ‘সুপার সেভেন’ নামে দুটি নতুন পর্ব। পুরো টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের আগে থাকবে একাধিক ধাপ, যা প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়াবে বলে মনে করছে আইসিসি।
আইসিসির দেখানো প্রধান যুক্তিগুলো
সহযোগী দেশগুলোর জন্য বাড়তি সুযোগ
নতুন ফরম্যাটে পূর্ণ সদস্য দেশের পাশাপাশি সহযোগী সদস্য দেশগুলোর জন্যও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ বাড়ছে। এতে উদীয়মান ক্রিকেট দেশগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবে।
১৪ দলের বিশ্বকাপ বহাল রাখা
১০ দলের বিশ্বকাপে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আইসিসির ওয়ার্কিং গ্রুপে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ১৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে।
তিন স্তরের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো
নতুন বিশ্বকাপে থাকবে সুপার সিরিজ, গ্রুপ পর্ব এবং সুপার সেভেন। এরপর অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। সব মিলিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে হবে ৬০টি ম্যাচ।
সুপার সিরিজ: ৬ ম্যাচ
গ্রুপ পর্ব: ৩০ ম্যাচ
সুপার সেভেন: ২১ ম্যাচ
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল: ৩ ম্যাচ
সুপার সিরিজের নতুনত্ব
র্যাঙ্কিংয়ের নিচের দিকে থাকা তিনটি দল সুপার সিরিজে অংশ নেবে। তারা একে অপরের বিপক্ষে খেলবে এবং সেরা দলটি মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
দুই গ্রুপে মূল পর্ব
মূল পর্বে থাকা ১২ দলকে ছয়টি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করার লড়াইয়ে নামবে।
সুপার সিক্সের পরিবর্তে সুপার সেভেন
আগের বিশ্বকাপগুলোর সুপার সিক্স পর্বের পরিবর্তে এবার থাকছে সুপার সেভেন। গ্রুপ পর্ব থেকে উত্তীর্ণ সাতটি দল এই পর্বে খেলবে। এখান থেকে শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে।
‘ডেড রাবার’ ম্যাচ কমানোর উদ্যোগ
বিশ্বকাপের অনেক আসরেই শেষ দিকে কিছু ম্যাচ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচকে প্রতিযোগিতামূলক রাখার চেষ্টা করেছে আইসিসি, যাতে দর্শকদের আগ্রহ শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে।
দর্শকদের বাড়তি রোমাঞ্চ
আইসিসির মতে, নতুন কাঠামো বিশ্বকাপকে আরও নাটকীয় ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। একাধিক ধাপ পার হয়ে নকআউটে পৌঁছাতে হওয়ায় প্রতিটি দলের জন্য চাপ ও চ্যালেঞ্জ দুটোই বাড়বে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ক্রিকেটের মান উন্নয়ন, দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখাই নতুন ফরম্যাট প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। নতুন ফরম্যাটে এটি হতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসর।