ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৭:৩২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

বিএমইউর রিপোর্টে উদ্বেগ: অকার্যকর ৪৬ হাজার অ্যান্টিবায়োটিক

বিএমইউর রিপোর্টে উদ্বেগ: অকার্যকর ৪৬ হাজার অ্যান্টিবায়োটিক

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে বহু জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। রোগীর দেহে ওষুধ-প্রতিরোধ বা রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ায় সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, সেফট্রিয়াক্সোন, জেন্টামাইসিন, মেরোপেনেম, টিগেসাইক্লিনসহ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিকগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে। এর ফলে রোগ নিরাময়ে সময় দীর্ঘ হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।

আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে প্রকাশিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স রিপোর্ট ২০২৪–২০২৫ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ alarming তথ্য জানানো হয়। 'এখনই পদক্ষেপ নিন, আমাদের বর্তমানকে রক্ষা করুন, আমাদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করুন'—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিএমইউর মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগ সচেতনতা সপ্তাহ উদযাপন করে।

বিএমইউর গবেষণায় যা উঠে এলো

বিএমইউর মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের উদ্যোগে গত এক বছরে বিভিন্ন রোগীর ৪৬ হাজার ২৭৯টি নমুনা বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ব্যবহারের কারণে রেজিস্ট্যান্স মারাত্মকভাবে বেড়েছে।

ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, সমস্যার দায় ও সমাধানের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিতে হবে। তিনি বলেন, এএমআর বিষয়ে গবেষণা, গাইডলাইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিএমইউকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

জনস্বাস্থ্যের জন্য মহাবিপর্যয়

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) হলো এমন একটি অবস্থা যখন অণুজীবগুলো অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ (অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিভাইরাল ইত্যাদি) দ্বারা আর মারা যায় না। এটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল বা অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে অণুজীবগুলো ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, ফলে সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান ভিডিও বার্তায় বলেন, "আগামী ১০–১৫ বছরের মধ্যে মানবজাতি আবার সেই একই সংকটে পড়তে পারে... এবার ওষুধ থাকবে, কিন্তু সেগুলো ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না। তাই এএমআর-কে এখন বিশ্বব্যাপী ‘এক মহাবিপর্যয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।"

সচেতনতা ও সমাধানের আহ্বান

মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবু নাসের ইবনে সাত্তার বলেন, অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া, অসম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ এবং প্রাণিসম্পদে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেই জীবাণুগুলো প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। তিনি প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান যে, অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত এ সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অ্যান্টিবায়োটিকের যুক্তিসংগত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ রক্ষায় কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহীম সিদ্দিক, শিশু বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান, ডেন্টাল অনুষদের নতুন ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপকবৃন্দ।