সরকার গঠনের পর দ্বিতীয়বারের মতো আজ শনিবার বৈঠকে বসছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী এবং এ বিষয়ে দলের কৌশল নির্ধারণই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি সরকারের কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।
স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি আগে থেকে জানানো না হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে জোর আলোচনা চললেও দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়টি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত হবে। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, বৈঠকে বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলীয় চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাবও বিবেচনায় আসতে পারে।
দলটির ভেতরে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য নাম নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে সামনে আনেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলটি এমন একজনকে মনোনয়ন দিতে পারে যিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অভিজ্ঞ এবং বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্য।
আলোচনায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি সাবেক প্রধান বিচারপতি, প্রবীণ আইনজীবী কিংবা রাজনীতির বাইরে সম্মানিত কোনো ব্যক্তির নামও উঠে আসছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক পদ পূরণের বিষয় নয়, বরং নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। তাই আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের দিকে রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।