ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৫ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন ‘সৌজন্যের রাজনীতি’র সূচনা করলেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন ‘সৌজন্যের রাজনীতি’র সূচনা করলেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন ‘সৌজন্যের রাজনীতি’র সূচনা করলেন হবু প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন তারেক রহমান।

বুকের টানে কাছে টেনে নিলেন সারজিস-নাহিদকে

রাত সাড়ে আটটার দিকে তারেক রহমানের গাড়ি বহর যখন বেইলি রোডে নাহিদ ইসলামের বাসার সামনে পৌঁছায়, তখন সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম ও পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এনসিপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সারজিস আলম। গাড়ি থেকে নেমেই নির্বাচনী লড়াইয়ের তিক্ততা ভুলে তারুণ্যের এই দুই প্রতিনিধিকে হাসিমুখে বুকে টেনে নেন তারেক রহমান। এই উষ্ণ আলিঙ্গন ছিল গত কয়েক দশকের প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে এক শক্তিশালী বার্তা।

উপহার ও আলোচনার সারসংক্ষেপ

সাক্ষাৎকালে নাহিদ ইসলাম তারেক রহমানকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এনসিপি প্রধান তাকে ‘শহীদ আনাস’-এর হাতে লেখা একটি চিঠি এবং দলের প্রতীক ‘শাপলা কলি’র একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। তারেক রহমান আশ্বস্ত করেছেন যে, ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক দলকে আর নিপীড়নের শিকার হতে হবে না।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

বৈঠকে বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। এনসিপির পক্ষে ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

সমঝোতার রাজনীতি ও আগামীর বাংলাদেশ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তারেক রহমানের এই পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত পরিপক্ক রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের পর রাতেই এনসিপি নেতার বাসায় যাওয়ার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, বিএনপি এককভাবে ক্ষমতায় গেলেও ছোট দলগুলো এবং তরুণ নেতৃত্বের ‘স্টেক’ বা গুরুত্বকে অস্বীকার করছে না। নির্বাচনে এনসিপি প্রধান বিরোধী জোটের অংশ ছিল এবং ফলাফল নিয়ে তাদের কিছু অসন্তুষ্টিও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজয়ীর পক্ষ থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এটি ‘বিজয়ীর ঔদ্ধত্য’ নয়, বরং ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ অন্তর্ভুক্তিমূলক ফর্মুলা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।