ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

বরগুনায় হাতপাখার বাজিমাত: সংসদে প্রথম যাত্রা ইসলামী আন্দোলনের

বরগুনায় হাতপাখার বাজিমাত: সংসদে প্রথম যাত্রা ইসলামী আন্দোলনের

বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (আমতলী-তালতলী) আসন থেকে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো দলটির কোনো প্রার্থী জাতীয় সংসদে প্রবেশের টিকিট পেলেন। ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহর এই জয়কে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন দলটির জন্য এক ‘বিপ্লবী অর্জন’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বরগুনা-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মো. অলি উল্লাহ ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৬ ভোট। ৪ হাজার ১৭৫ ভোটের ব্যবধানে নজরুল ইসলামকে পরাজিত করে সংসদে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন অলি উল্লাহ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে এককভাবে ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত বরগুনাতেই তারা এই অভূতপূর্ব সাফল্যের দেখা পায়।

বিজয়ী হওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ বলেন, "বরগুনার জনগণ আজ আমার জিম্মাদার। তাদের দেওয়া এই পবিত্র আমানত রক্ষা করাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য। ক্ষমতার চেয়ার আমার কাছে সম্মানের চেয়ে দায়িত্বের বেশি। আমি মনে করি, ক্ষমতায় বসা মানে আগুনের চাদর গায়ে দেওয়া। জনগণের কষ্ট লাঘব করতে না পারলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।"

সাধারণত বড় দলগুলোর আধিপত্যের রাজনীতিতে একটি ধর্মীয় ভাবধারার দলের এমন একক বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে হাতপাখার এই জয় প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটাররা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে বিকল্প শক্তির সন্ধান করছেন। তবে নির্বাচনী এলাকায় এই জয় পরবর্তী সময়ে কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে, সেদিকে প্রশাসন ও বিজয়ী প্রার্থীর সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় একজন আলেম বা ধর্মীয় নেতার এই উপস্থিতি সংসদের আলোচনায় কতটুকু বৈচিত্র্য নিয়ে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।