যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপ আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স কাউন্সিল (কেয়ার)-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। গত মাসে টেক্সাসে একই ধরনের সিদ্ধান্তের পর তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন।
সোমবার স্থানীয় সময় এক্স-এ প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে গভর্নর ডেস্যান্টিস এই নির্দেশনা জারি করেন। একইসঙ্গে, মিসরভিত্তিক শতবর্ষী সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’কেও একই তকমা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান:
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার কেয়ার বা মুসলিম ব্রাদারহুড—কোনোটিকেই ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেনি।
নির্দেশনা ও প্রভাব:
গভর্নরের ওই আদেশে ফ্লোরিডার বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এই সংগঠনগুলো বা যেসব ব্যক্তি এদের সহযোগিতা করেছেন, তাদের কোনো ধরনের চুক্তি, চাকরি কিংবা অর্থ বরাদ্দ না দেয়। এই ঘোষণার ফলে ফ্লোরিডার সরকারি কাজ ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিষিদ্ধ হয়ে গেল।
কেয়ার-এর আইনি চ্যালেঞ্জ:
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২৫টি শাখা রয়েছে। গভর্নরের ঘোষণার পর ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে কেয়ারের কেন্দ্রীয় ও ফ্লোরিডা শাখা এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘মানহানিকর’ আখ্যা দিয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট যখন কেয়ারকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করেছিলেন, তখনো সংগঠনটি ফেডারেল আদালতে আবেদন করে জানিয়েছিল যে এই ঘোষণা ‘মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী’ এবং এর পক্ষে ‘টেক্সাসের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’
মুসলিম ব্রাদারহুডের পরিচিতি:
অন্যদিকে, মুসলিম ব্রাদারহুড প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বের নানা দেশে তাদের শাখা রয়েছে। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন যে তারা বহু আগেই সহিংসতা পরিত্যাগ করেছেন এবং নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সরকারসহ সমালোচকেরা সংগঠনটিকে একটি হুমকি হিসেবে দেখে।