যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত বৃহস্পতিবার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক স্নাতক ছাত্র ও ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিলের মুক্তি সংক্রান্ত নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে দিয়েছে। এই আদেশের ফলে খলিলকে পুনরায় আটক এবং শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্ট করার পথে মার্কিন সরকার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ফিলাডেলফিয়া ভিত্তিক তৃতীয় ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিল জানিয়েছে, খলিলের মুক্তির জন্য ব্যবহৃত হেবিয়াস পিটিশন গ্রহণ করার এখতিয়ার নিউ জার্সির জেলা আদালতের নেই।
আদালতের দুই-এক সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই রায়ে বলা হয়েছে, অভিবাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো সরাসরি উচ্চতর ফেডারেল আপিল আদালতে দাখিল করতে হয়, যা নিম্ন আদালতে সম্ভব নয়। বিচারক প্যানেল তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে খলিলের মতো আবেদনকারীদের হয়তো বেআইনি সরকারি আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিকার পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত অ-নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কারে সরকার বর্তমানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
মাহমুদ খলিল কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনিপন্থী আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা ছিলেন। গত ৮ মার্চ তাকে তার নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় তিন মাস লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এই বন্দিদশার কারণে তিনি তার প্রথম সন্তানের জন্মমুহূর্তে পাশে থাকতে পারেননি। মার্কিন কর্মকর্তারা খলিলের বিরুদ্ধে হামাস সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। সরকার এমন একটি বিরল আইন ব্যবহার করে তাকে বহিষ্কার করতে চাইছে, যেখানে কোনো ব্যক্তির আদর্শ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি মনে হলে তাকে আটক করা যায়।
গেল জুন মাসে নিউ জার্সির একজন ফেডারেল বিচারক খলিলকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সরকারি পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং দাবি করে যে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল অভিবাসন বিচারকের। খলিল এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে তার বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বর্তমানে অভিবাসন আদালতের একটি আপিল বোর্ড খলিলের পূর্ববর্তী বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে। খলিলের আইনজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাকে আলজেরিয়া বা সিরিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে, যেখানে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তারা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আইনি লড়াইয়ের সব শেষ ধাপ পর্যন্ত যাবেন।