বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে উদযাপনের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় দলটি শাস্তির মুখে পড়তে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেস, জিওভানি লো সেলসো ও নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে একটি ব্যানার হাতে দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘ফকল্যান্ড (মালভিনাস) আর্জেন্টিনার।’ ম্যাচ-পরবর্তী এই উদযাপনই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে বা আনুষ্ঠানিক আয়োজনে রাজনৈতিক বার্তা, প্রতীক বা স্লোগান প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, দল কিংবা জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে প্রতিযোগিতার আয়োজক, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা ফিফা শাস্তি দিতে পারে।
ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপটির সার্বভৌমত্বকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে প্রায় ৬৫০ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। এছাড়া প্রাণ হারান তিনজন বেসামরিক নাগরিক। আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপটির ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে।
এ ধরনের ঘটনায় এর আগেও শাস্তি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানারের সামনে দলীয় ছবি তোলার কারণে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৩ লাখ টাকা।
শুধু ব্যানারই নয়, ইংল্যান্ডকে উদ্দেশ করে কয়েকটি বিতর্কিত স্লোগানও দিতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের। লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে একটি বাদ্যযন্ত্র হাতে সতীর্থদের সঙ্গে গান গাইতে দেখা যায়। উদযাপনের সময় খেলোয়াড়েরা 'যে লাফাবে না, সে ইংরেজ' স্লোগানও দেন। গ্যালারি থেকেও ইংল্যান্ডকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।
তবে মাঠের লড়াইয়ে ছিল আর্জেন্টিনার আরেকটি স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৫ মিনিটে মরগান রজার্সের অ্যাসিস্ট থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শেষদিকে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির বাড়ানো বলে দারুণ এক শটে সমতায় ফেরান এনসো ফের্নান্দেস। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির আরেকটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস। তাতেই ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
এই জয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল। তবে ফাইনালের আগে ফকল্যান্ড ইস্যুর বিতর্কে সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টিও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।