ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। এ উদ্দেশ্যে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের বাইরে থাকা ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, কর্মস্থল-স্থানান্তরিত সরকারি কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররাও এই সুবিধায় আসবেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। উদ্বোধনী সময়ে মিশর, জাপান, আরব আমিরাত, কেনিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের পাঁচজন প্রবাসী নাগরিকের নিবন্ধন নমুনা হিসেবে সম্পন্ন করা হয়।
সিইসি বলেন, প্রবাসীরা এতদিন জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন, আর এই উদ্যোগ তাদের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছে। তিনি জানান, প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি অর্থনৈতিক ভূমিকার পাশাপাশি এখন গণতান্ত্রিক ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন, যা প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। সাইবার নিরাপত্তা, ডাকসেবা সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত সচেতনতা—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই ইসি আন্তর্জাতিক মানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে ইসির অন্যান্য সদস্য ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অ্যাপের কার্যপ্রণালী, নিরাপত্তা এবং ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
নিবন্ধন ও ভোটদানের প্রক্রিয়া
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রবাসীদের জন্য পাঁচদিন করে নিবন্ধনের সময় নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ নিবন্ধন ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এলাকাভিত্তিক সূচি অনুযায়ী। দেশে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মস্থলের বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনিভাবে হেফাজতে থাকা ভোটাররা ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ সময় বাদ পড়া প্রবাসীরাও আবেদন করতে পারবেন।
নিবন্ধনের জন্য প্রবাসীদের ‘Postal Vote BD’ অ্যাপ ডাউনলোড করে মোবাইল নম্বর যাচাই, সেলফি ও এনআইডির ছবি আপলোড, পাসপোর্ট (থাকলে) এবং বিদেশের বর্তমান ঠিকানা প্রদান করতে হবে। তথ্য যাচাই শেষে অ্যাপে নিবন্ধন নিশ্চিত করা হবে।
পরবর্তী ধাপে রিটার্নিং কর্মকর্তারা পৃথক ভোটার তালিকা তৈরি করবেন এবং ভোটারের ঠিকানায় তিন খামের প্যাকেজে ব্যালট পাঠাবেন—একটিতে ব্যালট পেপার, অন্যটিতে আসন নম্বর ও রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিকানা।
খাম পাওয়ার পর ভোটারকে অ্যাপে লগইন করে কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের তালিকা দৃশ্যমান হয়। এরপর ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে ঘোষণাপত্রে সই করে নির্ধারিত খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট বক্স কিংবা পোস্ট অফিসে জমা দিলেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা নির্বাচনী ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।