ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৭:১৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

পশ্চিম তীরে আরও ১৯টি ইসরায়েলি বসতি অনুমোদনের ঘোষণা

পশ্চিম তীরে আরও ১৯টি ইসরায়েলি বসতি অনুমোদনের ঘোষণা

পশ্চিম তীরের অধিকৃত অঞ্চলে নতুন করে ১৯টি ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। দেশটির অতি-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্মোট্রিচ জানান, নতুন অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে এমন দুটি এলাকা রয়েছে যা ২০০৫ সালের এক পরিকল্পনার আওতায় আগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের গত দুই বছরের মেয়াদে নতুন বসতির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯টিতে। ইসরায়েলি বসতিবিরোধী সংস্থা পিস নাউ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিম তীরে বসতির সংখ্যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১০টিতে পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক আইনে এই ধরনের বসতি স্থাপনকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

এই অনুমোদন এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নে ইসরায়েল ও হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় তৈরি এই পরিকল্পনায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ তৈরির কথা বলা হলেও নতুন বসতি স্থাপনের এই পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিস নাউ-এর তথ্যমতে, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তে কিছু পুরনো অবৈধ আউটপোস্টকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা জমিতে নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি ইহুদি বসবাস করছে। ফিলিস্তিনিরা এই অঞ্চলগুলোকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। বর্তমানে ইসরায়েলি সরকারে স্মোট্রিচ ও বেন-গভীরের মতো কট্টরপন্থীদের আধিপত্য থাকায় বসতি সম্প্রসারণের এই কার্যক্রম আরও গতি পেয়েছে। একই সঙ্গে গত কয়েক মাসে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর ও নভেম্বরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনিদের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও যানবাহনে কয়েকশ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের সহিংসতার বিপরীতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে।