এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

নীলনদ বিরোধে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব

নীলনদ বিরোধে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব

মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নীলনদ বিরোধ নিরসনে আবারও মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে পাঠানো এক ব্যক্তিগত চিঠিতে ট্রাম্প জানান, তিনি নীলনদের পানি বণ্টন সংক্রান্ত জটিলতা চিরতরে সমাধান করতে মার্কিন মধ্যস্থতা পুনরায় শুরু করতে ইচ্ছুক। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চিঠিটি প্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মূলত ইথিওপিয়ার নির্মিত গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম বা জিইআরডি প্রকল্পটি ঘিরেই এই সংকটের সূত্রপাত। ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল বাঁধটি গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে আদ্দিস আবাবা। ১২ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়া মনে করে, তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এই প্রকল্প অপরিহার্য। অন্যদিকে নীলনদের ভাটির দেশ মিসর এই বাঁধকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। কায়রোর দাবি, এই বাঁধের ফলে দেশটিতে খরা ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পানিবণ্টন চুক্তির পরিপন্থী।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়; তার প্রথম মেয়াদেও ওয়াশিংটন এই বিরোধ মেটাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। যদিও সে সময় কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। তবে সাম্প্রতিক গাজা সংঘাতসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে মিসরের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এবং প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই মধ্যস্থতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইথিওপিয়ার জ্বালানি চাহিদা এবং মিসরের পানির নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আগ্রহ ও প্রস্তাব নীলনদ ইস্যুটিকে আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ দুই দেশের এই স্বার্থের সংঘাত নিরসনে মার্কিন মধ্যস্থতা কতটা সফল হয়।