আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ চলমান থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নামসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংশোধনের আবেদন আপাতত বিবেচনা করবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই স্থগিতাদেশ সোমবার (১ ডিসেম্বর) কার্যকর হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে ব্রিফিংকালে জানান, এনআইডি সংশোধনের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কারণে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, পেশা, জন্মতারিখ, ভোটারের ঠিকানা ও ছবি—এই সাতটি বিষয়ে এখন কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। কারণ এই পরিবর্তনগুলো ভোটার তালিকায় প্রভাব ফেলবে।
সচিব জানান, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকা বিষয়গুলো পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে এবং তখন সংশোধনের আবেদন বিবেচনা করা হবে।
তবে, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে স্বামী বা স্ত্রীর নাম, বৈবাহিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ধর্ম, প্রতিবন্ধিতার ধরণ, ভোটার ঠিকানা ছাড়া অন্যান্য ঠিকানা, টেলিফোন ও মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চালু আছে এবং নতুন ভোটার নিবন্ধন চলমান থাকবে।
এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রিন্ট কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভোটার এলাকা স্থানান্তর বা মাইগ্রেশন কার্যক্রমও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে সংশোধনের যেসব আবেদন আসবে, সেগুলোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও অনুমোদন এখন দেওয়া হবে না। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ফল প্রকাশ করা হবে। ২৪ নভেম্বর বিকেল ৪টার আগে যেসব আবেদনের ফল প্রস্তুত হয়েছিল, সেগুলো আবেদনকারীরা পেয়ে যাবেন।