ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি

নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে ঘোষিত ২২৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ও তার মিত্ররা ১৮০টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে । অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৬০টি আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। ভোট শেষ হওয়ার পর পরই কেন্দ্রগুলোতে শুরু হয় গণনা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে একে একে আসতে থাকে বেসরকারি ফলাফল। এখন পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের দাপট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাকি আসনগুলোর ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের হার ছিল রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার মতো। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর পর প্রথমবারের মতো ৫০টি রাজনৈতিক দল একযোগে নির্বাচনি ময়দানে লড়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি এই নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে দেখা গেছে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরও বেশ কিছু নতুন শক্তিকে। মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েছেন ২৭৪ জন। নারী নেতৃত্বের দীর্ঘ যুগের অবসানের এই নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০ জন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেড় দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি আবারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরতে যাচ্ছে, যা দলটির জনভিত্তিকে নতুন করে প্রমাণ করে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ৬০টি আসনে জয়লাভ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কারণ এটি প্রমাণ করে যে মাঠে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে সংহত হয়েছে। তবে এই নির্বাচনে কোনো বড় ধরনের নারী নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘ ৩৬ বছর পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই জয় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কতটুকু স্থিতিশীল করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।