নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জুলি মেনিন। বুধবার দুপুরে কাউন্সিল সদস্যদের সর্বসম্মত ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক সিটির ইতিহাসে প্রথম ইহুদি স্পিকার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘোষণা করেছেন যে, সিটির ব্যবসায়িক খাতে বিশেষ করে ঋণ সংগ্রাহক ও বীমা শিল্পের অনিয়ম তদন্তে তিনি কাউন্সিলের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করবেন।
কাউন্সিলের ৮০০ কর্মীর প্রধান হিসেবে মেনিন সিটি হলের ইস্ট উইং থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। মজার বিষয় হলো, তার দফতরটি ঠিক মেয়র জোহরান মামদানীর কক্ষের বিপরীত দিকে অবস্থিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একজন মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট হিসেবে মেনিন গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার মেয়রের নীতিগুলোর বিপরীতে একটি কাঠামোগত ভারসাম্য রক্ষা করবেন। যদিও মেয়র মামদানীর পছন্দের প্রার্থী ছিলেন ক্রিস্টাল হাডসন, তবে মেনিন বিভিন্ন প্রভাবশালী ইউনিয়ন এবং কুইন্স কাউন্টি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থন নিয়ে সময়ের অনেক আগেই নিজের জয় নিশ্চিত করেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মেনিন জানান, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তিনি সিটি মালিকানাধীন জায়গাগুলো চিহ্নিত করবেন যেখানে সাশ্রয়ী আবাসন গড়া সম্ভব। এছাড়া সিটির কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া শিশুদের জন্য বার্ষিক ১৮০ মিলিয়ন ডলারের একটি কলেজ তহবিল গঠনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি শিশু অন্তত এক হাজার ডলার পাবে, যা উচ্চশিক্ষার সময় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। আয় বৈষম্য দূর করতে শিক্ষা যে প্রধান হাতিয়ার, মেনিন সেই দর্শনেই বিশ্বাসী।
সাম্প্রতিক সময়ে মেয়রের কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে মেনিনের আদর্শিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা এবং মেয়রের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে তিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন। তবে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের চেয়ে প্রশাসনিক দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে চান তিনি। মেনিন বলেন, নিউ ইয়র্কবাসী চায় একটি কার্যকর সরকার, কোনো রাজনৈতিক নাটক নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার পূর্বসূরি আদ্রিয়েন অ্যাডামস দুর্নীতির কেলেঙ্কারির মাঝেও যেভাবে বাজেট রক্ষায় কাজ করেছেন, তিনি সেই ধারা বজায় রেখে একটি ইতিবাচক এজেন্ডা নিয়ে এগোতে চান।
কাউন্সিলের রিপাবলিকান সদস্যরা মেনিনকে মেয়রের কট্টরপন্থী কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। জবাবে মেনিন আশ্বস্ত করেছেন যে, জনস্বার্থে যেখানে প্রয়োজন সেখানে কাউন্সিল অবশ্যই তার ক্ষমতা প্রদর্শন করবে। তবে একই সঙ্গে তিনি মেয়রের সঙ্গে মিলে শিশু যত্নের মতো বিষয়গুলোতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রথম মুসলিম মেয়র এবং প্রথম ইহুদি স্পিকারের এই জুটি সিটির বিভাজন দূর করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবে বলে মেনিন আশা প্রকাশ করেন।