এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৬:৪৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

নিউ ইয়র্কে অভিবাসীদের লাইসেন্স প্রাপ্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বাধা কাটল আদালতের রায়ে

নিউ ইয়র্কে অভিবাসীদের লাইসেন্স প্রাপ্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বাধা কাটল আদালতের রায়ে

নিউ ইয়র্কের গ্রিন লাইট আইন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দায়ের করা আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছেন আলবানির এক ফেডারেল বিচারক। এর ফলে বৈধ কাগজপত্রের প্রমাণ ছাড়াই অভিবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের পথ আরও সুগম হলো।

মঙ্গলবার ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যান এম নারদাচ্চি তার ২৩ পৃষ্ঠার রায়ে জানান যে রিপাবলিকান প্রশাসন এই দাবি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে যে নিউ ইয়র্কের আইনটি ফেডারেল আইনকে লঙ্ঘন করে বা বৈষম্য সৃষ্টি করে। বিচারক স্পষ্ট করেন যে তার কাজ নীতির যৌক্তিকতা বিচার করা নয় বরং সংবিধানের আধিপত্য ধারা বজায় আছে কি না তা দেখা। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক মনে করেন সরকারের অভিযোগগুলো ধোপে টেকেনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিচার বিভাগ গভর্নর ক্যাথি হোকল ও অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেছিল। তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি অভিযোগ করেছিলেন যে নিউইয়র্ক সরকার নাগরিকদের চেয়ে অবৈধ অভিবাসীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে রায়ের পর লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন যে এই আইন সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষের মতে গ্রিন লাইট আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সড়কের নিরাপত্তা বাড়ানো। অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্স না থাকায় চালকরা পরীক্ষা ছাড়াই গাড়ি চালাতেন যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াত। নতুন নিয়মে বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেও বিদেশি পাসপোর্ট বা অন্য দেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সের আবেদন করা সম্ভব। তবে এটি বাণিজ্যিক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এর আগে ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিউ ইয়র্কের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ট্রাস্টেড ট্রাভেলার প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল যা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। বর্তমান মামলায় বিচার বিভাগ দাবি করেছিল যে অভিবাসন আইন কার্যকরে চালকদের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবাধ সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতের পরোয়ানা বা বিচার বিভাগীয় আদেশের মাধ্যমে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এখনো সেসব তথ্য পাওয়ার অধিকার রাখে।

লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই পারমিট সংগ্রহ করতে হবে এবং রোড টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে। এর মাধ্যমে অভিবাসীরা সহজেই গাড়ির বিমা করতে পারবেন যা বিমাহীন চালকের কারণে ঘটা দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনবে বলে মনে করছে স্টেট প্রশাসন।