নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বাকি আর মাত্র ১৯ দিন। সেই নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো সরাসরি টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন তিন প্রধান প্রার্থী—ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জোহরান মামদানী, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে তিনজনই নিউইয়র্ক সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তবে পুরো বিতর্কজুড়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায় মামদানী ও কুমোর মধ্যে। তাদের মধ্যে তীব্র বাক-বিনিময় ও পারস্পরিক সমালোচনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মঞ্চ। অন্যদিকে, তৃতীয় প্রার্থী স্লিওয়া দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর তর্কের ভেতর নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে বেশ কষ্ট পেতে থাকেন।
বিতর্কে উঠে আসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—
*ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু:*
যদিও এটি নিউইয়র্ক সিটির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, তবু আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ। জোহরান মামদানী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন। এ সময় কুমো তাকে “বিভাজনকারী ব্যক্তিত্ব” হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, “একজন মেয়রকে বৈশ্বিক নয়, স্থানীয় ঐক্যের প্রতীক হতে হবে।”
*ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গ:*
বিতর্কে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম একাধিকবার উঠে আসে। রিপাবলিকান প্রার্থী স্লিওয়া বলেন, “মেয়র হিসেবে যেই আসুক না কেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা ছাড়া উপায় নেই।”
অন্যদিকে মামদানী জানান, তিনি শুরু থেকেই ট্রাম্পের বর্ণবাদী রাজনীতির বিরোধিতা করে আসছেন। আর কুমো নিজেকে ট্রাম্প প্রশাসনের মোকাবেলায় “অভিজ্ঞ ও বাস্তববাদী প্রার্থী” হিসেবে তুলে ধরে সতর্ক করেন—“যদি মামদানী নির্বাচিত হন, ট্রাম্প নিউইয়র্কের রাজনীতি দখল করে নেবেন।”
*সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা ও আবাসন:*
নির্বাচনে অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় ও সাশ্রয়ী আবাসন সংকট। মামদানী তার পরিকল্পনায় বিনা মূল্যে বাস পরিষেবা চালু, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং নগর কর্তৃপক্ষের অধীনে কমদামে মুদি দোকান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন।
কুমো এসব পরিকল্পনাকে “অর্থনৈতিকভাবে অবাস্তব” বলে সমালোচনা করে বলেন, “এই নীতিগুলো ভবনমালিকদের দেউলিয়া করে দেবে এবং শহরের বিনিয়োগ পরিবেশ নষ্ট করবে।”
*কুমোর বিরুদ্ধে অভিযোগ:*
বিতর্কে মামদানী প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোর অতীত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মহামারির সময় বৃদ্ধদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন, তিনি এখন নৈতিকতার কথা বলছেন—এটি লজ্জাজনক।”
এর জবাবে স্লিওয়া মন্তব্য করেন, “আমি রাজনীতির পেশাদার নই—এটাই আমার গর্ব। এই শহরের অপরাধ ও অদক্ষতার জন্য দায়ী তারাই।”
আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন। এর আগে আরও একটি টেলিভিশন বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রার্থীরা আবারও মুখোমুখি হবেন শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা