মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঝটিকা অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর তাকে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসে বিমান হামলা ও কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে বর্তমানে তাদের মার্কিন আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হাতকড়া পরা অবস্থায় ডিইএ কর্মকর্তাদের সাথে যাওয়ার সময় ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো ইংরেজিতে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
এই নাটকীয় পরিবর্তনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা এখন থেকে কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ট্রাম্প জানান, লাতিন আমেরিকার এই দেশটি পরিচালনার জন্য তিনি তার নিজস্ব মন্ত্রিসভা থেকে লোক নিয়োগ দেবেন। তবে তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান বিরোধী দলকে ক্ষমতায় বসানোর পরিবর্তে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রয়োজনে দেশটিতে সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েন করার ব্যাপারেও নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানান তিনি।
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, আমেরিকার বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় গিয়ে তাদের ভেঙে পড়া অবকাঠামো মেরামত করবে এবং সেখান থেকে তেল উত্তোলন ও বিক্রির প্রক্রিয়া তদারকি করবে। এই ঘটনার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটে এক নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের চিত্র ফুটে উঠেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।