এখন সময় রিপোর্ট • প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বার ২০২৫, ১১:৪৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

নতুন আরপিও অনুযায়ী জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকেই ভোট করতে হবে

নতুন আরপিও অনুযায়ী জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকেই ভোট করতে হবে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার সোমবার (৩ নভেম্বর) নতুন করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ২০২৫ জারি করেছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেটে একগুচ্ছ সংশোধন ও নতুন বিধান সংযোজনের মাধ্যমে নির্বাচনি কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন আরপিও অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রতিটি প্রার্থীকে নিজ নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে। অর্থাৎ, জোটের মনোনীত প্রার্থী অন্য দলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। তবে দুই বা ততোধিক দল যদি যৌথ প্রার্থী দিতে সম্মত হয়, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনসাপেক্ষে সেই প্রার্থীর দলের সংরক্ষিত প্রতীকটি জোটের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন করতে হবে তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে।

আরপিও সংশোধনের ফলে একাধিক নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আদালত ঘোষিত ফেরারি বা পলাতক আসামিরা প্রার্থী হতে পারবেন না; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিতে থাকা কেউ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না; প্রার্থীদের হলফনামায় দেশে-বিদেশে আয়ের উৎস এবং সর্বশেষ রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচনের পরও নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সংশোধিত আইনে আরও বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দেড় দশক পর আসন্ন নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে। প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে তারা ভোটগ্রহণে কোনো বিঘ্ন ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

নতুন অধ্যাদেশে ‘না’ ভোটের বিধান পুনরায় চালু করা হয়েছে। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে ব্যালটে ‘না’ ভোটের বিকল্প থাকবে, আর সমান ভোট পড়লে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে। জামানতের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২০ হাজার।

আরপিওতে আরও সংযোজন করা হয়েছে আইটি সাপোর্টভিত্তিক পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি, যার মাধ্যমে প্রবাসী, সরকারি কর্মকর্তা বা হেফাজতে থাকা ভোটাররা ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। পাশাপাশি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের দণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, দলের ক্ষেত্রেও আর্থিক জরিমানার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে অনিয়ম বা গোলযোগ হলে কোনো কেন্দ্র নয়, প্রয়োজনে পুরো নির্বাচনি আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও গণনার সময় উপস্থিত থাকার সুযোগও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনি আইনের সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে ভোটার তালিকা আইন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনসহ বিভিন্ন নীতিমালা ও আচরণবিধি হালনাগাদ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, নতুন বিধান অনুযায়ী শিগগিরই দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি প্রকাশ করা হবে।