এখন সময় রিপোর্ট • প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবার ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

দেশে কার্ডভিত্তিক লেনদেনে রেকর্ড বৃদ্ধি, পাঁচ বছরে তিন গুণের বেশি লেনদেন

দেশে কার্ডভিত্তিক লেনদেনে রেকর্ড বৃদ্ধি, পাঁচ বছরে তিন গুণের বেশি লেনদেন

বাংলাদেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কার্ডভিত্তিক লেনদেন। ব্যাংক ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন ও নগদবিহীন লেনদেনের প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে গত পাঁচ বছরে দেশে কার্ডের সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে, আর লেনদেন বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ (জুলাই ২০২৫) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের ৫৬টি ব্যাংক ও একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি) কার্ড সেবা প্রদান করছে। এর মধ্যে ৪৮টি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড, দ্বৈত মুদ্রার ডেবিট কার্ড এবং প্রিপেইড কার্ড চালু রেখেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের আগস্ট শেষে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ। ২০২৫ সালের জুলাই শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৬৯ লাখে, অর্থাৎ পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫৬ শতাংশ।

কার্ডের তিনটি প্রধান ধরন—ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড—এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ডেবিট কার্ডের ব্যবহার। গত পাঁচ বছরে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ১২০ শতাংশ, ক্রেডিট কার্ড ৯৪ শতাংশ এবং প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু কার্ডের সংখ্যা নয়, লেনদেনের পরিমাণেও হয়েছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। ২০২০ সালের আগস্টে কার্ডভিত্তিক মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায়—বৃদ্ধি ঘটেছে প্রায় ২৩২ শতাংশ।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেবিট কার্ড এখন সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের আর্থিক কর্মকাণ্ডে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বেতন-ভাতা গ্রহণ, নগদ উত্তোলন ও দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য ডেবিট কার্ডই সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। অন্যদিকে, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার মূলত শহরকেন্দ্রিক, যেখানে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা প্রায় ৪৭৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। বিদেশে খরচের গন্তব্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। একসময় ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হতো ভারতে, কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে দেশটি এখন ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে।

অন্যদিকে, ডেবিট কার্ড বিদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে যুক্তরাজ্যে, এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, চীন ও ভারত। প্রিপেইড কার্ডও বিদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে যুক্তরাজ্যে।

দেশের অভ্যন্তরেও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে হয়েছে ব্যাপক লেনদেন। শুধুমাত্র ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডে ৩ হাজার ৮৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। বাকি অংশ এসেছে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, ফার্মেসি, নগদ উত্তোলন, পরিবহন ও তহবিল স্থানান্তর খাত থেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর সম্প্রসারণ, অনলাইন বাণিজ্যের বৃদ্ধি এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে ব্যাংকিং কার্ডের সংযুক্তি—এসবই কার্ডভিত্তিক লেনদেন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

তাদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নগদ অর্থের ব্যবহার আরও কমে আসবে, এবং বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল লেনদেন-ভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হবে।