মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় তহবিল ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত দ্বিতীয় দফার বিচারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। ক্ষমতা অপব্যবহার এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এই নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার কুয়ালালামপুরের প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘ সাত বছরের আইনি প্রক্রিয়া এবং ৭৬ জন সাক্ষীর বয়ান শেষে আদালত নাজিব রাজাককে ক্ষমতার অপব্যবহারের চারটি এবং মানি লন্ডারিংয়ের ২১টি অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। ওয়ানএমডিবি তহবিল থেকে প্রায় ২৩ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত আত্মসাতের ঘটনায় এই বিচারকার্য পরিচালিত হয়। মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১৫ বছর কারাগারে থাকতে হবে। উল্লেখ্য, নাজিব রাজাক ২০২২ সাল থেকে অন্য একটি দুর্নীতি মামলায় সাজা ভোগ করছেন।
আদালতে নাজিব রাজাকের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে, তিনি তার উপদেষ্টাদের বিশেষ করে পলাতক অর্থদাতা ঝো লো-র মাধ্যমে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। নাজিবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে আসা বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিল সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া অনুদান। তবে বিচারক এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এটি কোনো অনুদান ছিল না বরং রাষ্ট্রীয় তহবিলের অর্থ ছিল।
নাজিব রাজাকের এই সাজার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আদালতের বাইরে তার সমর্থকরা জড়ো হয়ে এই রায়কে অন্যায্য বলে দাবি করেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সবাইকে আদালতের রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দুর্নীতিবিরোধী কর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, এটি দেশের শীর্ষ নেতাদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
নাজিব রাজাকের স্ত্রী রোসমাহ মানসুরও ২০২২ সালে ঘুষ গ্রহণের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে থাকলেও আপিল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হয়, যার ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে নাজিবের দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন জোটের পতন ঘটেছিল।