এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৫:৪২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

তুলসি গ্যাবার্ডের মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ ও পদত্যাগ দাবি

তুলসি গ্যাবার্ডের মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ ও পদত্যাগ দাবি

আমেরিকার বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার দেশটির ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসি গ্যাবার্ডের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গত সপ্তাহে একটি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে গ্যাবার্ড দাবি করেন যে, নিউ জার্সির প্যাটারসনসহ বিভিন্ন শহরে মুসলিমরা শরিয়াহ আইন চালুর ষড়যন্ত্র করছে। কেয়ার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে অভিহিত করে তার পদত্যাগ দাবি করেছে।

টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ সম্মেলনে দেওয়া ওই ভাষণে তুলসি গ্যাবার্ড অভিযোগ করেন, আমেরিকার মুসলিমরা আইন বা সহিংসতার মাধ্যমে ইসলামী নীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি হিউস্টন, ডিয়ারবর্ন ও মিনিয়াপোলিসের মতো শহরগুলোর নাম উল্লেখ করে দাবি করেন যে, সেখানকার ধর্মীয় নেতারা তরুণদের উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত করছেন। এমনকি তিনি কেয়ার-এর বিরুদ্ধেও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে।

কেয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে গ্যাবার্ডের দায়িত্ব হলো নীতিনির্ধারকদের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা। কিন্তু তিনি একজন ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকের মতো আমেরিকান নাগরিকদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। সংস্থাটির মতে, গ্যাবার্ড যদি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে মুসলিমরা আমেরিকায় শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দিচ্ছে, তবে তিনি বাস্তববিবর্জিত। আর যদি তিনি জেনে-বুঝে মিথ্যা বলে থাকেন, তবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদের অযোগ্য।

সংস্থাটি আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, তুলসি গ্যাবার্ডের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। তিনি বাশার আল-আসাদ ও নরেন্দ্র মোদির মতো নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন, যারা নিজ দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করেন বলে সমালোচিত। কেয়ার-এর ২০২৫ সালের সিভিল রাইটস রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমেরিকায় বর্তমানে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিম বিদ্বেষ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতিতে কেয়ার দাবি করেছে যে, তুলসি গ্যাবার্ডকে হয় তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে, নতুবা পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের দায়িত্বহীন মন্তব্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।