বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও শোকের আবহের কারণে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীরা কেবল বর্তমান দলীয় প্রধানের প্রতিকৃতি প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে খালেদা জিয়ার ছবি সংবলিত পূর্বের প্রচারসামগ্রী নিয়ে আইনি ও কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই ধোঁয়াশা কাটাতে বিএনপি দ্রুতই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পোস্টারে দলীয় প্রধান হিসেবে কার ছবি থাকবে, সে বিষয়ে কমিশনের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। বর্তমানে শোকের আবহ চলায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কিছুটা বিলম্বিত হলেও বাস্তবিকভাবে তারেক রহমানই এখন দলের সব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বেগম জিয়ার মৃত্যুতে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি, যা শেষ হবে ৫ জানুয়ারি। এই শোকের মধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শোকাতুর হৃদয়েই তারা সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য হলো, খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ভোটের মাঠে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা। প্রচারণায় বার্তা দেওয়া হবে যে, শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৪১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হলেও দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ। শতাধিক আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে গিয়েছে হাইকমান্ড। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে নির্বাচনের শেষ ধাপে চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি মাঠে নেমে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দেশব্যাপী সফরের পরিকল্পনা করছেন।