ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা: ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা: ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন

রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে গতি ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে ৮ জনের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১০ জন শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

রাজনৈতিক ও কৌশলগত দায়িত্বে তিন হেভিওয়েট

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিএনপি ও দেশের রাজনীতির তিন পরিচিত মুখ মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ-কে প্রধানমন্ত্রীর 'রাজনৈতিক উপদেষ্টা' হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের রাজনৈতিক নীতি-নির্ধারণে তারা সরাসরি ভূমিকা রাখবেন।

গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে যারা

প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে দুই দক্ষ ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন নেতৃত্ব

দেশরক্ষা ও ডিজিটাল বিপ্লবের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দায়িত্ব পেয়েছেন:

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রেহান আসিফ আসাদ: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

একাই চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মাহদী আমিন

এবারের দপ্তর বণ্টনে সবচেয়ে চমক দেখিয়েছেন তরুণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তাকে একযোগে জনগুরুত্বপূর্ণ চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলো হলো— শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

অপেক্ষায় দুই উপদেষ্টা

১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে ৮ জনের দপ্তর চূড়ান্ত হলেও হুমায়ুন কবির এবং ডা. জাহেদ উর রহমান-কে এখনও কোনো দপ্তর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা হতে পারে।

নতুন সরকারের এই দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে ভঙ্গুর হয়ে পড়া অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো দ্রুত পুনর্গঠিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে একক নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞদের রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া সরকারের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।