হার দিয়ে সিরিজ শুরু হলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সমতা ফেরানোর পর, সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা। লিটন দাসের দলের জন্য এটি ছিল একটি স্বস্তির জয়।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিং টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুটা ভালোই করেছিল আয়ারল্যান্ড।
কিন্তু টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের মুখে বেশিদূর এগোতে পারেনি তারা। মুস্তাফিজুর রহমান এবং রিশাদ হোসেনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৯ ওভার ৫ বলে মাত্র ১১৭ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড। অধিনায়ক স্টার্লিং ২৭ বলে ৩৮ রান করেন, আর জর্জ ডকরেল করেন ২৩ বলে ১৯ রান। বাংলাদেশের পক্ষে মুস্তাফিজ এবং রিশাদ দুজনেই তিনটি করে উইকেট তুলে নেন। মুস্তাফিজ ১১ রানে ৩টি এবং রিশাদ ২১ রানে ৩টি উইকেট নেন।
১১৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং সাইফ হাসান দলকে ভালো সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ৩৮ রান যোগ করেন। তবে সাইফ ১৪ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
এরপর অধিনায়ক লিটন দাস ক্রিজে এলেও সুবিধা করতে পারেননি, মাত্র ৬ বলে ৭ রান করে আউট হন। লিটনের বিদায়ের পর ক্রিজে আসা পারভেজ ইমনকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন ওপেনার তানজিদ তামিম।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তানজিদ তামিম মাত্র ৩৫ বলে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি তুলে নেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন পারভেজ ইমন। এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় ৩৮ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
তানজিদ তামিম ৩৬ বলে ৫৫ এবং পারভেজ ইমন ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ইয়োং ও হ্যারি টেক্টর একটি করে উইকেট নেন। সিরিজ জুড়ে দারুণ পারফর্ম করায় মেহেদী হাসানকে সিরিজসেরা এবং ম্যাচ জয়ী ইনিংসের জন্য তানজিদ হাসানকে ম্যাচসেরা নির্বাচিত করা হয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১১৭ (স্টার্লিং ৩৮, ডকরেল ১৯; মোস্তাফিজ ৩/১১, রিশাদ ৩/২১)।
বাংলাদেশ: ১৩.৪ ওভারে ১১৯/২ (তানজিদ ৫৫*, পারভেজ ৩৩*; টেক্টর ১/১৭, ইয়াং ১/৩০)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: তানজিদ হাসান।
সিরিজসেরা: মেহেদী হাসান।
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।