এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০২ নভেম্বার ২০২৫, ০৫:১৯ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

তানজানিয়ার বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সামিয়া সুলুহু হাসানের বিপুল জয়

তানজানিয়ার বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সামিয়া সুলুহু হাসানের বিপুল জয়

তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান পুনরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। দেশটির নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মোট ভোটের প্রায় ৯৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়েছেন। তবে এই নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতা ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, ফলাফল ঘোষণার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয় যে, হাসানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান একই দিনই অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের আগে থেকেই বিরোধী দলগুলো নানা বাধা ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে।

নির্বাচনের দিন থেকেই রাজধানী দোদোমা সহ বেশ কয়েকটি শহরে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিক্ষুব্ধ জনতা হাসানের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে, এমনকি কিছু সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালায় বলে জানা গেছে।

প্রধান বিরোধী দল চাদেমাকে নির্বাচন থেকে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়। দলটির দাবি, বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্যমতে, সহিংসতায় প্রায় ৭০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনে অন্তত তিনটি শহরে ১০ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ থাবিত কম্বো বলেন, “নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি।”

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলির মৃত্যুর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে থাকা সামিয়া সুলুহু হাসান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। এবারের নির্বাচনে তিনি ১৬ জন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অন্যদিকে, নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করার পর বিরোধী নেতা টুন্ডু লিসু রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কারাগারে বন্দি রয়েছেন, ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। অপর বিরোধী নেতা লুহাগা এমপিনাকেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ভোটের আগে সরকার দেশে “ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ” তৈরি করেছিল। নির্বাচনের পূর্ববর্তী দিনগুলোতে একাধিক বিরোধী রাজনীতিক ও কর্মী অপহরণের শিকার হন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচনের পর এখনো পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হাসান কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানাননি।

এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “তানজানিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বিক্ষোভে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার খবরগুলো গভীরভাবে চিন্তার কারণ।”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকরা এখন পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সহিংসতার স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছেন। তবে তানজানিয়া সরকার বলছে, “সবকিছুই আইনসম্মতভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”