তাইজুল ইসলামের বল ব্যারি ম্যাকার্থির ব্যাট ছুঁয়ে লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়তেই পুরো দল উৎসবে মাততে চাইছিল। লিটন ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে নেন রিভিউ। স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে ভেসে ওঠে লাল অক্ষরে ‘আউট’। সেই সিদ্ধান্তেই সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয় ইনিংস ও ৪৭ রানে।
চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই আয়ারল্যান্ড ছিল চাপে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫৮৭ রানের জবাবে ৩০১ রানে পিছিয়ে পড়া প্রতিপক্ষের সামনে লড়াইটা কঠিনই ছিল। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৫ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ডকে টেনে তুলতে পারেনি কেউই। আজ জয়ের জন্য আর কতক্ষণ অপেক্ষা—এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে সময় লেগেছে প্রায় দেড় সেশন।
দিনের তৃতীয় বলেই আম্পায়ারের আঙুল ওঠে তাইজুলের বলে, কিন্তু রিভিউতে রক্ষা পান ব্যাটার। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে দাঁড়িয়ে ক্যাচ হাতছাড়া করে আঘাতও পান অধিনায়ক নাজমুল—জয়ের পথটা কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়।
রিভিউ ছিল দিনের আলোচিত অংশ। প্রথম সেশনে বলবার্নি একবার রিভিউ নিয়ে জীবন পান। একই ওভারে দুবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা এমনভাবে লড়ে যাচ্ছিলেন, মনে হচ্ছিল ইনিংস হার এড়িয়ে যাবার চেষ্টা চলছে জোরেশোরেই।
ম্যাকব্রাইনের প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস তাকে নিয়ে গিয়েছিল ম্যাচটাকে দীর্ঘায়িত করার পথে। তাকে ক্যাচ বানিয়ে সেই অনিশ্চয়তা দূর করেন নাহিদ রানা। তবে ম্যাকার্থি ও নেইলের ৫৪ রানের জুটি আবারও অপেক্ষা বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ও হাসান মুরাদ সেই জুটিও ভেঙে আয়ারল্যান্ডকে অলআউট করেন।
বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি স্পিনার মিলেই দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৭ উইকেট। তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ওপর ভর করে টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো ইনিংস ব্যবধানে জয় পায় দলটি।
সম্পূর্ণ ম্যাচেই বাংলাদেশ ছিল অপ্রতিরোধ্য। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাট–বলে প্রভাব বিস্তার করে সহজেই এগিয়ে গেছে সিরিজে ১–০ তে। ব্যক্তিগত সাফল্যের তালিকাও ছিল চমকে ভরা—ওপেনার মাহমুদুল হাসানের ১৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের সেঞ্চুরি, আর অভিষেকে আলো ছড়ানো হাসান মুরাদ সবার নজর কাড়েন।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ১৯ নভেম্বর, মিরপুরে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড: ২৮৬ ও ২৫৪
ম্যাকব্রাইন ৫২, স্টার্লিং ৪৩, বলবার্নি ৩৮; মুরাদ ৪/৬০, তাইজুল ৩/৮৪
বাংলাদেশ: ৫৮৭/৮ ডিক্লেয়ার
ফল: বাংলাদেশ ইনিংস ও ৪৭ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: মাহমুদুল হাসান