ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৬:৪১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা ও দিল্লির পাল্টাপাল্টি হাইকমিশনার তলবে উত্তপ্ত কূটনৈতিক অঙ্গন

ঢাকা ও দিল্লির পাল্টাপাল্টি হাইকমিশনার তলবে উত্তপ্ত কূটনৈতিক অঙ্গন

নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে দেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির অবস্থান জানানো হয়। পরে এক বিবৃতিতে ভারত জানায়, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলোকে লক্ষ্য করে কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উসকানিমূলক তৎপরতা ও পরিকল্পনার বিষয়ে তারা চিন্তিত। হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপকালে ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে উদ্ভূত কিছু পরিস্থিতি নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের ছড়ানো বিভ্রান্তিকর বক্তব্য বা ভুল বয়ান তারা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছে। ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি কিংবা দিল্লির সঙ্গে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বিনিময় করেনি।

ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছে যা বর্তমানে উন্নয়ন ও জনগণের যোগাযোগের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়। ভারত বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে সংশ্লিষ্ট সরকারের, সেটিও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে গত রোববার তলব করেছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে সেখানে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ চেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত সন্দেহভাজনরা ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকলে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের এই আবহে পাল্টাপাল্টি হাইকমিশনার তলবের ঘটনাটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।