অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গান্তর সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোর ফেডারেল ফান্ড বা সরকারি অনুদান বন্ধ করার যে বিতর্কিত পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছে, তা রুখতে আইনি যুদ্ধে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি স্টেট। গত মঙ্গলবার ওরেগনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক এবং ইলিনয়সহ ডেমোক্র্যাট শাসিত স্টেটগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের ঘোষিত ওই নীতি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে।
গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র অপ্রাপ্তবয়স্কদের হরমোন থেরাপি বা সার্জারির মতো চিকিৎসা প্রদান করবে, তাদের মেডিকেড ও মেডিকেয়ার পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। হাসপাতালের আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে এই সরকারি তহবিল থেকে, যা বন্ধ হলে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যর্থ হবে। স্বাস্থ্য সচিব কেনেডি এই চিকিৎসাকে পেশাদার চিকিৎসার মানদণ্ড অনুযায়ী অযোগ্য এবং এক ধরনের অপচিকিৎসা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে স্টেটগুলোর দাবি, এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বীকৃত পদ্ধতি এবং সরকারের এমন হস্তক্ষেপ ক্ষমতার অপব্যবহার।
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য সচিব এককভাবে অনলাইনে কোনো নথিপত্র প্রকাশ করে চিকিৎসার মানদণ্ড পরিবর্তন করতে পারেন না। তিনি মনে করেন, কোন চিকিৎসা প্রয়োজনীয় তা নির্ধারণের দায়িত্ব ডাক্তারদের এবং রোগীদের, সরকারের নয়। অন্যান্য দেশে এই চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চিকিৎসা গোষ্ঠীগুলো একে সমর্থন করে আসছে। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, এই চিকিৎসার সুফল অনিশ্চিত এবং এতে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনেরও বেশি স্টেটে অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গান্তর চিকিৎসায় নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে নতুন এই ফেডারেল নীতি পুরো দেশে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা সংকুচিত করে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ডের নেতৃত্বে এই মামলায় কেনেডি এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার প্রধান যুক্তি হলো, চিকিৎসা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করার সাংবিধানিক ক্ষমতা স্টেটগুলোর হাতে থাকা উচিত, কেন্দ্রীয় সরকারের নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের অস্তিত্ব অস্বীকার করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। এর আগে সামরিক বাহিনীতে ট্রান্সজেন্ডারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্টে লিঙ্গ পছন্দের সুযোগ বাতিল করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রতিনিধি সভায়ও লিঙ্গান্তর চিকিৎসাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিল পাস হয়েছে, যদিও সিনেটে তা পাসের সম্ভাবনা কম। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তাবিত নতুন নিয়মগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামতের জন্য ৬০ দিন সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।