উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুদান দেওয়ার বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘কম্প্যাক্ট ফর একাডেমিক এক্সিলেন্স ইন হায়ার এডুকেশন’ চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত বিতর্কিত শর্তাবলিকে উচ্চশিক্ষার স্বাধীনতায় ‘সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
চুক্তিতে যা রয়েছে
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেডারেল ফান্ড বা সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে এর বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেশ কিছু কঠিন শর্ত মানতে বলা হয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ডাইভারসিটি, ইকুইটি এবং ইনক্লুশন (DEI) সংক্রান্ত সব নীতিমালা বাতিল করা।
রক্ষণশীল বা কনজারভেটিভ মতাদর্শের বিরুদ্ধে যায় এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার কমিয়ে আনা।
আগামী পাঁচ বছরের জন্য শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বৃদ্ধি না করা বা ফ্রিজ করে রাখা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিক্রিয়া
ইতোমধ্যেই হার্ভার্ড, এমআইটি (MIT), ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া (Penn), ডার্টমাউথ কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশন-এর প্রেসিডেন্ট টেড মিচেল এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি অনুদান হওয়া উচিত মেধার ভিত্তিতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে নয়।”
টেড মিচেল আরও জানান যে, এই চুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কাঠামোর ওপর আঘাত হানছে। কে শিক্ষা দেবে এবং কী পড়ানো হবে—এই সিদ্ধান্তগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হওয়া উচিত। সরকারের এই হস্তক্ষেপ উচ্চশিক্ষার উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং সত্য অনুসন্ধানের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বিদেশি শিক্ষার্থী ও আর্থিক প্রভাব
চুক্তিতে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির উর্ধ্বসীমা বা ক্যাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টেড মিচেল উল্লেখ করেন যে, বিদেশি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শুধু বৈচিত্র্যই আনে না, বরং তাদের টিউশন ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে স্থানীয় নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ভর্তুকি দেওয়া হয়। ফলে এই নিয়ম কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
যদিও কতিপয় বিশ্ববিদ্যালয় এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে বেশিরভাগ শিক্ষাবিদ মনে করছেন যে এই ‘ডিল’ মার্কিন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।