এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৭:২৬ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা কৌশলকে স্বাগত জানাল ক্রেমলিন

ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা কৌশলকে স্বাগত জানাল ক্রেমলিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদিত নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিন বলছে, এই নীতিমালায় তাদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত ওই কৌশল নথিতে ইউরোপে 'সভ্যতা বিলুপ্তির মতো' হুমকির উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানকে যুক্তরাষ্ট্রের 'মূল' স্বার্থ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রোববার (১১ ডিসেম্বর) বলেন, পরিবর্তিত নীতির অনেক অংশই রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে 'মিল খুঁজে পাওয়া যায়'। তিনি নথিতে ন্যাটোকে 'ক্রমাগত সম্প্রসারণশীল জোট' হিসেবে দেখার প্রবণতা কমিয়ে আনার ভাষাকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য, ন্যাটো সম্প্রসারণকে রাশিয়া বরাবরই নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখে আসছে।

তবে পেসকভ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত 'ডিপ স্টেট'—যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই ব্যবহার করেন—তাদের অবস্থান নতুন কৌশল নথির সঙ্গে পুরোপুরি মিলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনীতি ও ট্রাম্পের অবস্থান

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক কৌশলগত নথিগুলোতে রাশিয়াকে শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ওয়াশিংটনের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে 'বন্ধু' হিসেবে বর্ণনা করা—এসবই ট্রাম্পের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে জেলেনস্কি সোমবার লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্‌ৎসের সঙ্গে চারপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন।

শান্তিচুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা কিয়েভকে সীমান্ত ছাড়ের প্রস্তাব বিবেচনা করতে বললেও, জেলেনস্কি বারবার ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছে দৃঢ় সমর্থন চাইছেন।

চীনের দিকে নজর ও 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি

নতুন নিরাপত্তা কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রস্থলে রাখা হয়েছে ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলকে। এই অঞ্চলকে 'অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্র' হিসেবে উল্লেখ করে তাইওয়ান প্রণালীতে সংঘাত প্রতিরোধে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় নিঃসঙ্গ রাশিয়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। ট্রাম্প গত মার্চে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে আমার কাছে একটি জিনিস স্পষ্ট, তা হলো রাশিয়া ও চীনকে একত্র হতে দেওয়া উচিত নয়।'

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই নথি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক কাঠামো বদলে 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির আলোকে আন্তর্জাতিক মিত্রতা নতুনভাবে সাজানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে ইউরোপের 'পশ্চিমা পরিচয়' রক্ষায় এবং 'সভ্যতার বিলুপ্তি' ঠেকাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—যে ভাষা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের অতিদক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।