এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবার ২০২৫, ১২:৫১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের উপস্থিতিতে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়ার শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর

ট্রাম্পের উপস্থিতিতে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়ার শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া প্রথমবারের মতো একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান (ASEAN) এর ৪৭তম শীর্ষ সম্মেলনে রোববার (২৬ অক্টোবর) এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যা দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটায়।  

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনে জোটভুক্ত দেশগুলোর নেতারা চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করেন। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে।  

আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সকালে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশিল্পীদের একটি দল। রেড কার্পেটে নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত নাচে অংশ নেওয়ার পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার পতাকা হাতে লিমুজিনে করে শহরের দিকে রওনা দেন।   

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, জুলাই মাসে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সংঘর্ষের পর তারপ্রশাসন ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, “আমি শান্তিচুক্তি করায় অত্যন্ত দক্ষ, এই ক্ষেত্রে জাতিসংঘের চেয়েও অনেক ভালো কাজ করি।”  

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এ সময় ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “তার সতর্ক দিকনির্দেশনা ও অবিরাম প্রচেষ্টা ছাড়া এই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।”  

তিনি আরও বলেন, “যে কোনো জটিল ও কঠিন বিরোধই শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা সম্ভব, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতা থাকে।”  

হুন মানেত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকেও কৃতজ্ঞতা জানান এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার রাখার আহ্বান জানান।  

এই চুক্তির মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের দীর্ঘদিনের সীমান্তসংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায় সূচনা করল বলে পর্যবেক্ষকদের মত।