২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান সংকট এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় এক কড়া বার্তায় জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ যদি নিরাপত্তা অজুহাতে ভারত সফর থেকে বিরত থাকে, তবে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে গেলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (সিএএস) পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিসিবি সূত্র।
২০২৫ সালের মে মাসে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুল বর্তমানে সমমনা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। আইসিসিতে দীর্ঘ সময় কর্মরত থাকার সুবাদে বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবি আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। মূলত নিরাপত্তার কারণে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো বিসিবি চেয়েছিল বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। কিন্তু বোর্ড সভায় হওয়া ভোটাভুটিতে অধিকাংশ সদস্যই বাংলাদেশের এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এই সংকট নিরসনে আইসিসি বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে। আগামী এক দিনের মধ্যে বিসিবিকে নিশ্চিত করতে হবে তারা ভারতে গিয়ে খেলবে কি না। এ প্রসঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপে পড়ে আইসিসি যদি কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দেয়, তবে বাংলাদেশ তা মেনে নেবে না। দলের অধিনায়ক লিটন দাসের কণ্ঠেও ফুটে উঠেছে গভীর অনিশ্চয়তা। স্কোয়াড ঘোষণা হলেও খেলোয়াড়রা এখনও জানেন না তাদের গন্তব্য ভারত নাকি অন্য কোনো দেশ।
সংকট সমাধানে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে পুনরায় নিরাপত্তা বিষয়ক সভা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারতকে সর্বোচ্চ জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিলেও বিসিবি বর্তমানে ভারত সফরে যেতে রাজি নয়। এদিকে আইসিসির অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়ে বিসিবির একটি বিশ্বস্ত সূত্র চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। দুবাইয়ে আইসিসি সদর দপ্তরের সিংহভাগ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভারতীয় হওয়ায় সেখানে ভারতের চাওয়া পূরণ হওয়া অনেকটা সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আইনি লড়াইয়ের পথও খোলা রাখছে বিসিবি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে নিজেদের অধিকার আদায়ে লড়বে বাংলাদেশ।
বর্তমান ক্রিকেটে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। আইসিসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভারতের আধিপত্য এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ—এই দুইয়ের টানাপড়েনে এখন খাদের কিনারায় দেশের ক্রিকেট। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের জন্য এটি এক বড় অগ্নিপরীক্ষা, যেখানে তাকে আইনি এবং কূটনৈতিক উভয় ফ্রন্টেই লড়তে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে, তবে এটি আইসিসির একচেটিয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। শেষ পর্যন্ত খেলার জয় হবে নাকি প্রশাসনিক জটিলতা দেশের ক্রিকেটকে বড় কোনো ক্ষতির মুখে ফেলবে, তা আগামী ২৪ ঘণ্টাতেই পরিষ্কার হবে।