ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বার ২০২৫, ১১:৫৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

টিকিট কারসাজি বন্ধে কঠোর আইন, ট্রাভেল এজেন্সির জন্য নতুন বিধান

টিকিট কারসাজি বন্ধে কঠোর আইন, ট্রাভেল এজেন্সির জন্য নতুন বিধান

উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রিতে কারসাজি, দুর্বৃত্তায়ন ও প্রতারণা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এখন থেকে টিকিটসংক্রান্ত প্রতারণা বা হয়রানির অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১১টি অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

নতুন বিধানে অবৈধ টিকিট বিক্রয়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অননুমোদিত লেনদেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, তৃতীয় দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় এবং কনফার্ম টিকিটে যাত্রীর তথ্য পরিবর্তনকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শেখ বশিরউদ্দীন জানান, সব ট্রাভেল এজেন্সিকে এখন থেকে এয়ারলাইনসের টিকিটের গায়ে মূল্য উল্লেখ করতে হবে। যারা তা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিমান পরিবহন খাতের ৮০ শতাংশ যাত্রী অভিবাসী কর্মী, নতুন আইনের মাধ্যমে তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং যাত্রীসেবা আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও জনবান্ধব হবে।

অধ্যাদেশে সরকারকে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণা বা আর্থিক আত্মসাতের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো ‘যাত্রী সেবা নিশ্চিতকরণ’ শব্দগুচ্ছ আইনে যুক্ত হয়েছে। টিকিট বিক্রয়ে স্বচ্ছতা আনতে গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) ও এপিআই-ভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে আরও যুক্ত হয়েছে—এয়ার অপারেটরদের ট্যারিফ দাখিল ও মনিটরিংয়ের বিধান, পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের জন্য টেকসই জ্বালানির ব্যবহার, কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাস, বেসামরিক বিমান চলাচল অর্থনৈতিক কমিশন গঠন এবং সাইবার সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার।

উপদেষ্টা বলেন, গত ১৬ বছরে বিমান খাতে দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। মধ্যপ্রাচ্যের ৩০ বা ৪০ হাজার টাকার টিকিট এক লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, যা অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর অন্যায়। নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিযোগিতামূলক দামে টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের অধিকার রক্ষা।

তিনি আরও জানান, এখন থেকে একটি ট্রাভেল এজেন্সির টিকিট অন্য কোনো এজেন্সি বিক্রি করতে পারবে না। আড়তদারি ব্যবসার এই অনিয়মই বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৩২ লাখ মানুষ বিদেশে গেছেন, যাদের কাছ থেকে টিকিটের মূল্য বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। নতুন আইনে বিএমইটি-সার্টিফায়েড শ্রমিকদের নামে কোনো গ্রুপ টিকিট বুকিং দেওয়া যাবে না, তবে পরিবার বা সংগঠনের সদস্যদের জন্য তা করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, এয়ারলাইনসের সব কার্যক্রম অটোমেটেড হওয়ায় এখন থেকে কে কোথা থেকে টিকিট বিক্রি করছে, তা সফটওয়্যারের মাধ্যমে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। কোনো এয়ারলাইনস নিয়মভঙ্গ করলে তাদেরও দায় নিতে হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত এই তদারকির দায়িত্বে থাকবে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, অতিরিক্ত সচিব ফারহিম ভীমা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।