এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবার ২০২৫, ১১:১৮ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

জ্ঞানের উৎসবে বিশ্ব মুগ্ধ, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

নোবেল পুরস্কার ২০২৫

জ্ঞানের উৎসবে বিশ্ব মুগ্ধ, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

অক্টোবর ২০২৫—সুইডেনে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্ত যেন মানবতা, গবেষণা ও সাহসিকতার এক বৈশ্বিক উদ্‌যাপন। এ বছর ছয়টি বিভাগে মোট ১৪ জন ব্যক্তিত্বকে তাদের অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য ছিল সবচেয়ে বেশি—পাঁচজন মার্কিন নাগরিক পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও রসায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন।

পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও রসায়নে মার্কিন আধিপত্য

পদার্থবিজ্ঞানে জন এম. মার্টিনিজ ও জন ক্লার্ক কোয়ান্টাম টানেলিং ও শক্তির কোয়ান্টাইজেশন নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার পান।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে মেরি ই. ব্লাঙ্কো ও ফ্রেড র‍্যামসডেল মানবদেহে ইমিউন টলারেন্স প্রক্রিয়া উন্মোচন করে অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেন।

রসায়নে ওমর এম. ইয়াঘি তাঁর মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস (MOFs) গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।

শান্তি, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে অনন্য অর্জন

শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অসাধারণ সাহসিকতা দেখিয়েছেন।

সাহিত্যে সম্মানিত হয়েছেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই, যাঁর বিমূর্ত ও গভীর লেখনী আধুনিক ইউরোপীয় সাহিত্যে নতুন ধারা এনেছে।

অর্থনীতিতে পুরস্কার ভাগাভাগি করেছেন কানাডার পিটার হাওয়িট, নেদারল্যান্ডসের জোয়েল মোকিয়র এবং ফ্রান্সের ফিলিপ আগিওঁ—অর্থনৈতিক উদ্ভাবন, প্রবৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর নিয়ে তাদের যৌথ গবেষণার জন্য।

ট্রাম্পের মন্তব্যে নোবেল নিয়ে বিতর্ক

নোবেল ঘোষণার আনন্দঘন দিনে আলোচনায় উঠে আসেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন,

“যিনি আজ শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, তিনি আমাকে ফোন করে বলেছেন—‘এই পুরস্কারটি আমি আপনার সম্মানে গ্রহণ করছি। কারণ, আপনি-ই প্রকৃত প্রাপক।’ আমি বলিনি, আমাকে দিয়ে দাও। তবে মনে হয়, তিনিও তা ভেবেছিলেন।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর আগেও তিনি দাবি করেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা নোবেল-যোগ্য। তাঁর প্রশাসনের সময় ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন হয়, যা তিনি “ঐতিহাসিক সফলতা” হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

তবে নোবেল কমিটি সবসময়ই রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে মানবিক প্রভাব ও দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তাদের মূল্যায়নে গবেষণা, মানবাধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই থাকে প্রধান বিবেচনায়।

এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা নোবেলে বড় জয় পেলেও, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া পুরস্কারটির রাজনৈতিক ও নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে যেমন ব্যক্তিগত আত্মপ্রত্যয়ের ছাপ রয়েছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী নোবেল পুরস্কারের তাৎপর্য নিয়ে ভিন্নমতও উসকে দিয়েছে।