এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বার ২০২৫, ০৭:০৫ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

জেমস কোমি ও লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

জেমস কোমি ও লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি ও নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক। বিচারকের রায়ে বলা হয়, এ মামলার প্রসিকিউটর লিন্ডসি হ্যালিগানকে অন্তর্বর্তীকালীন ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তা আইনবহির্ভূত এবং মার্কিন সংবিধানের অ্যাপয়েন্টমেন্টস ক্লজ লঙ্ঘন করেছে।

বিচারক ক্যামেরন কারি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হ্যালিগানকে এমনভাবে দায়িত্বে বসানো হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি নিয়োগ বিষয়ক ফেডারেল আইন ৫৪৬–এর বিধানের পরিপন্থী ছিল।

বিচারক বলেন, “এই ব্যত্যয়কে বৈধ ধরা হলে সরকারের যে কেউ—আইনজীবী হোক বা না হোক—গ্র্যান্ড জুরির সামনে গিয়ে ইচ্ছেমতো অভিযোগ এনে দিতে পারত। আইন এমনটি অনুমোদন করে না।”

অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া

জেমস কোমি এক ভিডিও বার্তায় মামলাটিকে বলেন “বিদ্বেষ আর অযোগ্যতার ভিত্তিতে সাজানো”। তিনি জানান, এটি বিচার বিভাগের ভয়াবহ রাজনৈতিক অপব্যবহারের প্রতিফলন। তবু তিনি বলেছেন, তিনি ভীত নন এবং আইনানুগ লড়াই চালিয়ে যাবেন।

লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, “আজকের রায় আমাকে সাহস জুগিয়েছে। আমি নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য লড়াই চালিয়ে যাব এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আমাকে দমাতে পারবে না।”

হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া

হোয়াইট হাউস বিবৃতিতে জানিয়েছে, “কোমি ও জেমসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্য অপরিবর্তিত। এই রায়ই চূড়ান্ত শব্দ নয়।” প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, বিচার বিভাগ শিগগিরই মামলাটি খারিজের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং প্রশাসন মনে করছে হ্যালিগানকে যথাযথভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

পুনরায় অভিযোগ গঠনের সম্ভাবনা

বিচারক মামলাটি খারিজ করেছেন উইদাউট প্রেজুডিস, অর্থাৎ তাত্ত্বিকভাবে সরকার চাইলে নতুন প্রসিকিউটরের মাধ্যমে আবার অভিযোগ আনতে পারে। তবে কোমির আইনজীবীরা মনে করেন, মামলার সীমাবদ্ধতার মেয়াদ—স্ট্যাচুট অব লিমিটেশনস—ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে, কারণ অভিযোগ আনার সর্বশেষ সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর।

কী ছিল অভিযোগ

জেমস কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ২০২০ সালে মার্কিন সিনেটের বিচার বিষয়ক কমিটির সামনে দেওয়া বক্তব্যে ভুয়া তথ্য উপস্থাপন ও ন্যায়বিচারে বাধা সৃষ্টি। অন্যদিকে লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মর্টগেজ জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে মিথ্যা তথ্য প্রদান। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

মামলার পটভূমি

লিন্ডসি হ্যালিগানকে ট্রাম্প সরাসরি নির্বাচন করে ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন ইউএস অ্যাটর্নির দায়িত্ব দেন। এর আগে ওই পদে থাকা এরিক সাইবার্টকে ট্রাম্প চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করেন, কারণ তিনি লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার মতো প্রমাণ পাননি। হ্যালিগান—যিনি আগে কখনো ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করেননি—নিয়োগ পাওয়ার পর দ্রুত গ্র্যান্ড জুরিতে কোমির মামলাটি তোলেন।

হ্যালিগান ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সাংস্কৃতিক প্রকল্পে জড়িত ছিলেন, যেখানে স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের জাদুঘরগুলো থেকে তথাকথিত “বিকৃত মতাদর্শ” সরানোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিল।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ আনেন। রিপাবলিকানদের তেমন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন

আইন বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই বলছিলেন, মামলার প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এতটাই গভীর ছিল যে, কোনো একটিমাত্র ত্রুটিতেই মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। শেষ পর্যন্ত হ্যালিগানের নিয়োগই মামলার পতন ঘটায়।

সারসংক্ষেপ

বিচারকের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়, হ্যালিগানের নিয়োগ অবৈধ হওয়ায় তার মাধ্যমে আনা অভিযোগও বাতিল। এর ফলে কোমি ও লেটিশিয়া জেমস আপাতত মুক্ত, তবে ফেডারেল সরকার আপিল করলে আইনি লড়াই আবার নতুন ধাপে প্রবেশ করতে পারে।