ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বার ২০২৫, ০৫:৫৪ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মামলা: আজ শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায়

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মামলা: আজ শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায়

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার ১৭ নভেম্বর। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার দপ্তর জানিয়েছে, বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় পড়া হবে।

এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এদের মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন ইতোমধ্যে অ্যাপ্রুভার হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়ে সেনা সদরে চিঠি পাঠিয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, রায় সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি।

গত ১৩ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে ১ জুন তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগপত্রে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—২০২৩ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে প্রদান করা উসকানিমূলক বক্তব্য, হেলিকপ্টার ও ড্রোনসহ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।

১০ জুলাই এই অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। একই দিন গ্রেপ্তারি অবস্থায় থাকা সাবেক আইজিপি মামুন আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং অ্যাপ্রুভার হওয়ার আবেদন করেন। এ মামলার অন্য দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক রয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মামলাটি ছিল শেখ হাসিনাকে একমাত্র আসামি করে দায়ের করা এই মামলা। পরে ১৬ মার্চ মামুনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১২ মে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের খালাস আবেদন করেন। সাবেক আইজিপি মামুনের পক্ষ থেকেও খালাস চাওয়া হয়।

আজকের রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত এই প্রথম মামলার বিচারিক অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে।