ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৫:৩৭ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে মনোনীত

জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে মনোনীত

দেশের বিচারাঙ্গণের সর্বোচ্চ পদে বড় পরিবর্তন এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বুধবার ২৪ ডিসেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের ১ দফা অনুযায়ী এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং শপথ গ্রহণের পর থেকেই তার কার্যকাল শুরু হবে।

বর্তমানে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনকারী বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করায় বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এখন তাকেই পূর্ণ মেয়াদে এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। শীঘ্রই বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তিনি শপথ গ্রহণ করবেন।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬১ সালের ১৮ মে। তার বাবা প্রয়াত এ এফ এম আবদুর রহমান চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের একজন বরেণ্য বিচারক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম শেষ করে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর উচ্চতর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে জেলা আদালত এবং ১৯৮৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তার পেশাজীবন শুরু হয়। ২০০৩ সালে তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৫ সালে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বিচার বিভাগে ব্যাপক রদবদল ঘটে। ১০ আগস্ট তৎকালীন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের পর সৈয়দ রেফাত আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার ঠিক দুই দিন পর বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ চারজনকে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে উন্নীত করা হয়। জ্যেষ্ঠতার ক্রমে তিন নম্বরে থাকলেও মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নে তাকেই এখন বিচার বিভাগের শীর্ষ পদে আসীন করা হয়েছে।

বয়সসীমা অনুযায়ী বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৮ সালের ১৮ মে পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকতে পারবেন। তার এই নিয়োগের মাধ্যমে দেশের বিচার বিভাগ এক নতুন যুগে প্রবেশ করল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে আপিল বিভাগে তার সহযোগী হিসেবে আরও পাঁচজন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। দেশের আপামর জনসাধারণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই হবে তার নতুন মেয়াদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।