এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বার ২০২৫, ০৮:০৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

জি-২০ বয়কট ট্রাম্পের ক্ষতি, বললেন রামাফোসা

জি-২০ বয়কট ট্রাম্পের ক্ষতি, বললেন রামাফোসা

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, আসন্ন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুপস্থিতি “তাদেরই ক্ষতি।” আগামী সপ্তাহে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ না করা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সম্প্রতি ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বলেছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য। ট্রাম্প একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা দায়ের করার পদক্ষেপ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা দেন, ২২ ও ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এবারের জি-২০ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবে না। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের ওপর যে গণহত্যা চলছে, তাতে এই সম্মেলন সেখানে আয়োজন করা লজ্জাজনক।”

রামাফোসা সাংবাদিকদের বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই বয়কট রাজনীতি কার্যকর হয় না। জি-২০ সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া যেমন চলেছে, এবারও চলবে। বিশ্বের অন্যান্য সব রাষ্ট্রপ্রধান এখানে থাকবেন। তাদের অনুপস্থিতি শুধুই তাদের ক্ষতি।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে না আসা তাদের ভূমিকা খর্ব করছে।”

এর আগে মে মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও রামাফোসার মধ্যে বৈঠক হয়, যেখানে ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তোলেন। সেই বৈঠকে রামাফোসা ট্রাম্পকে জি-২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা গণহত্যার মামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০২৩ সালে দায়ের করা এই মামলার প্রাথমিক শুনানিতে আইসিজে ইসরায়েলকে মানবিক সহায়তা প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু দেশটি তা কার্যকর করেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি থাকলেও তাদের মামলা চালিয়ে যাবে। তারা ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আদালতে ৫০০ পৃষ্ঠার প্রমাণপত্র জমা দিয়েছে। ইসরায়েলের পাল্টা বক্তব্য ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে, আর মৌখিক শুনানি হবে ২০২৭ সালে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শীতল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে এটি ১৯৯৪ সালে বর্ণবৈষম্যের অবসানের পর সবচেয়ে নিন্ম পর্যায়ে নেমে এসেছে।

রামাফোসা বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা শান্তি, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে কাজ করে যাবে। “আমরা কারও চাপ বা হুমকিতে নত হব না,” তিনি যোগ করেন।

এই অবস্থায় জি-২০ সম্মেলন আফ্রিকার কণ্ঠ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।