এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান

জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান। তবে শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলায় একজন বেসামরিক নাবিক নিহত হন। এর পরপরই ইরান ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় একটি বন্দরে ছোট আকারের বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এ হামলাটি মূলত প্রতীকী জবাব হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তবে ইরানি ও পশ্চিমা সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আর সামরিক সংঘাতে গড়ায়নি। পরিকল্পিত হামলা বাস্তবায়িত হলে তা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারত। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার কারণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি এবং এ ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

পরে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই আলাপচারিতায় সাইবিহা দাবি করেন, হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং ইউক্রেন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে চায় না।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জানান, ইরানও উত্তেজনা বৃদ্ধি চায় না। তবে বেসামরিক জাহাজ, স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, ইউরোপীয় কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। উভয় পক্ষ পরিস্থিতি শান্ত রাখার উপায় এবং উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে আপাতত ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।