বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত আট দলীয় জোটে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি রাজনৈতিক দল। গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এই জোটে যোগ দেওয়ায় এখন মোট দলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দশটি। রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৩০০ আসনেই এই জোটের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আসন বণ্টন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং একটি মজবুত নির্বাচনী সমঝোতা তৈরি করা হয়েছে। জামায়াতের আমির জানান, এনসিপির সাথে আলোচনার পর তারা এই জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাবে। জোটের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ আর নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে অনেক দলের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাদের এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা সমতল মাঠ তৈরি হয়নি। দেড় মাসেরও কম সময় বাকি থাকায় ভোটের তারিখ পরিবর্তন না করে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, জাতি একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এর ব্যতিক্রম কিছু মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে জামায়াতের সাথে এই জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনসিপির অভ্যন্তরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেত্রী তাসনিম জারা ও তাসনূভা জাবীন পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া আরও ৩০ জন নেতা তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর এই জোটে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করল।
দশ দলীয় এই জোটে জামায়াত, এনসিপি ও এলডিপি ছাড়াও রয়েছে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং নেজামে ইসলাম পার্টি। তবে কোন দল কয়টি আসনে নির্বাচন করবে, সেই বিস্তারিত তালিকা সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়নি। জোটের নেতারা জানিয়েছেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর চূড়ান্ত সমন্বয় সম্পন্ন হবে।