নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহুপক্ষীয় সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এ আলোচনায় যৌথ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) অনুষ্ঠিত বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শুধু নীতিমালা প্রণয়ন নয়, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুলিশ, অর্থ, শিক্ষা, পরিবেশ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক কর্মপদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে। দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা এবং নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগকে একটি শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব এবং কার্যকর সমন্বয় কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হতে হবে।
জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা আলোচনায় দেশটির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরার পাশাপাশি কার্যকর নীতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাংলাদেশের বক্তব্যে উঠে আসে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।