চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে আজ শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের ঢল নেমেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ সমবেত হয়ে প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো সংসদ ভবন এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। উপস্থিত শোকাতুর জনতার কণ্ঠে হাদির রক্ত বৃথা যেতে না দেওয়ার সংকল্পবদ্ধ স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সবার চোখে প্রিয় নেতাকে হারানোর শোক থাকলেও খুনিদের বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষ আজ রাজপথে সোচ্চার।
জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও এর আশেপাশের প্রবেশ পথগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনী বিশেষ টহলে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে হাদির মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে জানাজার মাঠে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের বিশেষ ইচ্ছা ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। জানাজা শেষে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। এর আগে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান হাদি। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আজ বিকালেই কবির সমাধির পাশে তার দাফন সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই বীর যোদ্ধাকে বিদায় জানাবে জাতি।